সংকট উত্তরণে মধ্যবর্তী নির্বাচন দাবি করলেন কর্নেল অলি

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

কর্নেল অলিদেশে বিরাজমান সঙ্কট উত্তরনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করেছেন ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম।

তিনি বলেছেন, দেশে সংকট বিরাজ করছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিকল্প নেই।

দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়’ সভায় তিনি এ দাবি জানান।

অলি বলেন, দেশে বর্তমানে যে সংকট চলছে- জঙ্গি উত্থান, দুর্নীতি, চাঁদাবাজিসহ সব সমস্যার সমাধান সকল দলের অংশগ্রহণে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে সম্ভব।

বিএনপির জাতীয় ঐক্যের ডাক নিয়ে কর্নেল অলি বলেন, বিএনপি যে দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য করতে চাইছে, তাদের দিয়ে বৃহত্তর ঐক্য হবে বলে বিশ্বাস করি না।

বিএনপির চেয়ারপারসনের নেয়া ঐক্য প্রক্রিয়াকে এলডিপি কীভাবে দেখছে—এমন প্রশ্নের জবাবে অলি আহমদ বলেন, যারা ২০ দলের বাইরে আছে, তাদের সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। বিভিন্ন অজুহাতে তারা ২০ দলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হতে অনীহা প্রকাশ করেছে এবং তারা কয়েকটা দল নিয়ে ড. কামাল হোসেন সাহেবের সঙ্গে একটা জোটও করেছিল।

তিনি বলেন, ‘যারা নানা অজুহাতে জোটে আসতে অনীহা প্রকাশ করেছে, তারা যে বৃহত্তর ঐক্য করবে, এটা আমি বিশ্বাস করি না। এদের অনেকে ধান্দাবাজ, অনেকে দুর্নীতিবাজ। তারা বিভিন্ন কলাকৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।’

অলি আহমদ বলেন, প্রাণহীন দেহ ও গণতন্ত্রহীন সমাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। চলমান সংকটের সমাধানের জন্য প্রয়োজন সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ মধ্যবর্তী নির্বাচন।

ওই নির্বাচন কার অধীনে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে অলি আহমদ বলেন, যখন সরকার নির্বাচন ঘোষণা করবে, তখন এ বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ হবে। তবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন আপনি যে-কারো অধীনে করতে পারেন। শুধু একটা কাজ করলে হবে। সেটা হলো প্রত্যেক ভোটার আইডেন্টি কার্ড নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করবে। কার্ডের নম্বরটা ব্যালট পেপারের উভয় দিকে লিপিবদ্ধ থাকবে। তাহলে জাল ভোট দেওয়ার আর কোনো অবকাশ থাকবে না। কেবল সন্ত্রাসীদের ভোটকেন্দ্র থেকে বাইরে রাখলে হবে।’

সরকার বলে আসছে সংবিধান অনুযায়ী তাদের অধীনেই নির্বাচন হবে—এ বিষয়ে অলি আহমদ বলেন, ‘জনগণের জন্য, দেশের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটার জন্য আমাকে যদি চেয়ার থেকে সরেও যেতে হয়, সেটার জন্য আমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল করিম, আবদুল গণি, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ।