বিকল্পধারা থেকে বহিষ্কার হচ্ছেন বি চৌধুরী!

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি 


আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির ময়দানে চলছে ভাঙা-গড়ার এক পুরোনো খেলা। এবারের খেলায় মাঠে নেমেছে সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়া যাওয়া বিকল্পধারা বাংলাদেশ। ভোটের আগে জোটের রাজনীতির ফাঁদে পড়ে দ্বিখণ্ডিত হতে চলেছে বি চৌধুরী-মান্নানের গড়া দল বিকল্পধারা।

দলটির একটি অংশ পাল্টা-বিকল্পধারা গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেবল তাই নয়, নিজেদের মূল স্রোত দাবি করে বিকল্পধারা তিন প্রতিষ্ঠাতাকে বহিস্কার করে নতুন নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে।

আগামীকাল ১৯ অক্টোবর শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন বিকল্পধারার ঘোষণা আসছে।

সূত্র জানিয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা ভেঙে নতুন করে গড়া এ দলটির সভাপতি হচ্ছেন দলটির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য নূরুল আমীন বেপারী। আহমেদ বাদল হবেন মহাসচিব। আর জানে আলম থাকবেন যুগ্ম মহাসচিব।

অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল বলেন, জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে একটা বড় প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের অধিকার আদায় সম্ভব হবে। কিন্তু মাহি বি চৌধুরী আমাদের কারো সঙ্গে কোনো কথা না বলেনই জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টে যোগ দেওয়ার আগে নানা শর্ত জুড়ে দেন। এককভাবেই তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন, একটি গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। তবে বাবার নাম ব্যবহার করে মাহী বি. চৌধুরীর সিদ্ধান্তে দলের অধিকাংশ নেতা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। আমরা একটি অংশ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।  শুক্রবার আমরা প্রেস কনফারেনন্স ডেকেছি, সেখানে আমরা নতুন কমিটি ঘোষণা করবো।

অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল আরো বলেন, বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় কমিটি ৭১ সদস্যের হলেও এখন রয়েছে ২৫ থেকে ২৬ জন। এর মধ্যে কৃষিবিষয়ক সম্পাদক জানে আলম, সমবায়বিষয়ক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবলু, যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার জোবায়ের, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী জুন্নু, কৃষক ধারার আহ্বায়ক চাষী এনামুল, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক শিপরা রহিম, সদস্য নুর মুহাম্মদ, মিজানুর রহমান চৌধুরী, আবদুল মতিনসহ ১৭ জনই আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বিএনপি থেকে বহিস্কৃত হওয়ার পর ২০০৪ সালে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাড়াতে বাধ্য হন দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। পরে বিএনপির আরেক নেতা মেজর (অব.) আব্দুল মান্নানকে নিয়ে গড়ে তোলেন বিকল্পধারা বাংলাদেশ। প্রতীক হিসেবে বেছে নেয় কুলা। আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, প্রতিষ্ঠার এই ১৪ বছরে দলটিতে কোনো কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও সামাজিক উদারতাবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত এ দলটি তৃণমূলে সেভাবে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির রাজনীতিতে ভাগ বসাতে পারেনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টে যোগ দেওয়ার পর পুরনো দল বিএনপি শিবিরের সঙ্গে আবারো রাজনৈতিক যোগসাজশ শুরু হয়। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বদরুদ্দোজা চৌধুরির পুরনো সম্পর্ককে নতুন করে সামনে আসায় তৃণমূলেও আলোচনায় উঠে আসে বিকল্পধারার রাজনীতি। তবে নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত গত ১৩ অক্টোবর দলটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট থেকে বের হয়ে যাবার ঘোষণা দিলে বিভাজনের আভাস ফুটে উঠে। শেষ পর্যন্ত সে বিভাজন দলটিকে নতুন চ্যালেঞ্জের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এমন গুঞ্জন এখন বেশ ডালপালা মেলছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে।


Notice: Undefined index: email in /home/insaf24cp/public_html/wp-content/plugins/simple-social-share/simple-social-share.php on line 74