‘ভারতের সাথে চুক্তি বাতিল করতে হবে’

অক্টোবর ১০, ২০১৯ ডেস্ক রিপোর্ট

গত ৫ অক্টোবর নয়াদিল্লীতে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বাতিলের দাবি জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

তিনি বলেন, এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক দেশবিরোধী। এগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের সকল চাওয়া-পাওয়া পুরণ করা হয়েছে। এসব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশ বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সংবিধান পরিপন্থী ও দেশবিরোধী এসব চুক্তি দেশের জনগণ কখনোই মেনে নিবে না। অবিলম্বে এসব চুক্তি বাতিল করতে হবে। একই সাথে জমিয়ত মহাসচিব বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকা-ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, বুয়েটের মতো দেশসেরা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত এই নিষ্ঠুর হত্যা- দেশের সর্বস্তরের মানুষের মনে গভীর আঘাত করেছে।

আজ (১০ অক্টোবর) বৃস্পতিবার পল্টনস্থ দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, ভারতের সাথে সম্পাদিত এসব অসম চুক্তি ও সমঝোতা বাস্তবায়ন শুরু হলে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের অবারিত সুযোগ পাবে ভারত। এতে করে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর থেকে ভারতের পূর্বাঞ্চলে মাল আনা-নেওয়া করতে বাংলা দেশের প্রধান প্রধান সড়ক ও রেল পথ ব্যবহার করতে পারবে ভারত। বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে পানি তুলে ত্রিপুরায় নিতে পারবে। তরল গ্যাস রফতানি হবে। এছাড়াও এসব চুক্তির মাধ্যমে সমুদ্র নজরদারির কথা বলে বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলে ভারতকে রাডার স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে কয়েক বছর আগে থেকেই ভারতীয় পণ্যবাহী যানবাহনসমূহকে বাংলাদেশের সড়ক ও নদীপথ ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়ে শুল্কমুক্ত ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে কলকাতা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনও বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে শিলিগুড়ি যাওয়া-আসা করবে।

জমিয়ত মহাসচিব বলেন, সরকারের তরফ থেকে বার বার বলা হচ্ছে, “ভারতকে মানবিক কারণে ফেনি নদীর পানি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাহলে আমরাও তো একই ধরনের মানবিকতা ভারতের কাছ থেকে আশা করি। কিন্তু ভারত সেটা কখনো করেছে? গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দৌড়ঝাপ ও দেন-দরবার করেও তিস্তার একফোঁটা পানি ভারতের কাছ থেকে আদায় করা গেছে?

সংবাদ সম্মেলনে আল্লামা কাসেমী আরো বলেন, আমরা নিত্য দেখে আসছি, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নির্বিচার বাংলাদেশী হত্যা বন্ধে বৈঠকে সরকার কোন জোরালো আওয়াজ তুলেনি। এনআরসি ইস্যুতে বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও এই নিয়ে ভারতের সামান্য কোন বক্তব্যও আদায় করতে পারেনি। ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে শুকাচ্ছে, আবার ডুবাচ্ছে; এসব নিয়ে সরকারের কোন মাথা ব্যথা নেই। বাংলাদেশের উপর চেপে বসা রোহিঙ্গা সংকটে ভারতীয় সহযোগিতার স্পষ্ট কোন প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পারেনি। অথচ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনস্বার্থকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এই সরকার ভারত তুষ্টিতেই বিভোর হয়ে আছে।

তিনি বলেন, ভারতের সাথে সরকার কি কি চুক্তি করেছে, তা জানার অধিকার বাংলাদেশের জনগণের অবশ্যই রয়েছে। দেশের সংবিধান এই অধিকার দেশের জনগণকে দিয়েছে। আমরা ফেনী নদীর পানি তুলে নেওয়া, বন্দর ব্যবহার, ট্রানজিট, ভারতীয় রাডার স্থাপনসহ দেশবিরোধী এসব বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে জমিয়ত মহাসচিব আরো বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্যাসিনো তথা জুয়ার আসর উৎখাতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে যে কয়েকটি অভিযান চালিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, এটা জনগণের কাছে অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসিত হয়েছে। আমরা এ জন্য তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু চিহ্নিত কিছু জায়গায় অভিযান চালিয়ে শুধু চুনোপুটিদের নয়, বরং এসবের সাথে জড়িত রাঘব-বোয়ালদেরও ধরতে হবে। শুধু জুয়ার আসর নয়, ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যের সম্পদ হরণ, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, মাদক, কমিশন বাণিজ্য ও সকল প্রকার বেহায়াপনার বিরুদ্ধে এমন অভিযান বিস্তৃত করতে হবে।

আল্লামা কাসেমী দেশের সকল খতীব, ইমাম ও সর্বস্তরের মুসলমানদের প্রতি আগামী কাল শুক্রবার বাদ জুমা হত্যাকা-ের শিকার বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের রূহের মাগফিরাত ও জান্নাতের জন্য বিশেষ দোয়া-মুনাজাত করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা জহিরুল হক ভূঁইয়া, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজীজ, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান, অর্থ সম্পাদক মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আব্দুল গাফফার ছয়ঘরী, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মুহিউদ্দীন মাসুম, মাওলানা মুনির আহমদ প্রমুখ।