অমানবিক: পটুয়াখালীতে করোনা সন্দেহে নারীকে ঘরছাড়া করলেন স্বজনরা

দেশে করোনা মহামারী দেখা দেওয়ার পর বাড়ছে অমানবিকতা। আক্রান্ত হলে বা সন্দেহজনক হলে কেউ এগিয়ে আসছে না, আবার লাশ দাফন করতে গিয়ে অনেক সময় দেখা দিচ্ছে বিপত্তি।

এবার পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নে রোববার রাতে ঘটেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা।

শরীরে জ্বর থাকায় করোনা সন্দেহে এক নারীকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন তার স্বজনরা। অসহায় ওই নারীর এখন ঠাঁই হয়েছে রাস্তায়। সেখানেই তিনি খোলা আকাশের নিচে কাতরাচ্ছেন। ঘরছাড়া ওই নারীর নাম রেনিস বেগম মালা (৪২)।

রেনিস বেগম মালা উপজেলার সদর ইউনিয়নের উনিশ নম্বর গ্রামের মৃত নূর হোসেন হাওলাদারের মেয়ে। তিনি ঢাকার মুগদা থানার উত্তর মুগদাপাড়ায় থাকেন বলে জানা গেছে।

রেনিসের স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্বামী পরিত্যক্তা। স্বামীর সঙ্গে দূরত্বের পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

এক সপ্তাহ আগে রেনিস ঢাকা থেকে রাঙ্গাবালী এসে উনিশ নম্বর গ্রামের সৎভাই জসিম হাওলাদারের বাড়িতে ঠাঁই নেন। কিন্তু কয়েক দিন ধরে রেনিস জ্বরে ভুগছেন। গতকাল রাতে রেনিসের স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন তাকে ঘর থেকে বের করে দেন। এর পর থেকে খালগোড়া বাজারের চৌরাস্তায় গিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন তিনি।

খালগোড়া বাজারের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাত ৮টার দিকে চৌরাস্তায় একটি দোকানের সামনে রেনিস নামে এক নারী অসুস্থ অবস্থায় এসে আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি কাতরাচ্ছিলেন। তাদের দাবি, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন।

এবিষয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি শুনে আমি তাৎক্ষণিক খোঁজ নিয়েছি। তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। রাতে তার খাবারের ব্যবস্থা করেছি। ডাক্তারের সঙ্গেও কথা বলেছি। সোমবার সকালে তাকে এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হবে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে।