অরিত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে দুই শিক্ষিকার বিচার শুরু

জুলাই ১০, ২০১৯

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে করা মামলায় দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বিচারকাজ।

আজ বুধবার (১০ জুলাই) দুপুরে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখাপ্রধান জিনাত আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে সাক্ষীর জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন ঠিক করেন।

এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন জানান।

অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী সবুজ বাড়ই এর বিরোধিতা করে চার্জগঠনের আবেদন জানান।

গত ১৬ জুন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির দুই শিক্ষিকা।

গত ২০ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী কামরুল ইসলাম ওই দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শ্রেণিশিক্ষক হাসনাহেনাকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করেন তিনি।

অপর দুই শিক্ষিকা হলেন— ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখাপ্রধান জিন্নাত আরা।

অরিত্রীর আত্মহত্যায় ঘটনায় পল্টন থানায় তার বাবা দিলীপ অধিকারী বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর পরীক্ষা চলাকালে অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পান শিক্ষক।

মোবাইল ফোনে নকল করেছে, এমন অভিযোগে অরিত্রীর মা-বাবাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়। অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী তার স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গেলে ভাইস প্রিন্সিপাল তাদের অপমান করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

অধ্যক্ষের কক্ষে গেলে তিনিও একই রকম আচরণ করেন। এ সময় অরিত্রী দ্রুত অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়।

এরপর শান্তিনগরে বাসায় গিয়ে অরিত্রী তার কক্ষে সিলিংফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।