অসহায় ফিলিস্তিনিদের উপর হামলা চালাচ্ছে ইহুদিবাদী উদবাস্তুরা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নাহিয়ান হাসান


ইহুদীবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল কর্তৃক জোরপূর্বক কর্তৃত্ব চালানো পশ্চিম তীরের নাবলাসের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত বুরকা গ্রামে উগ্র ইহুদীবাদী অবৈধ ইসরাইলী বসতি স্থাপনকারীরা বুধবার (৬ই মে) একটি ফিলিস্তিনি রাখালের উপর হামলা করে জোরপূর্বক তার ভেড়াগুলো নিয়ে যায়।

উত্তর পশ্চিম তীরে ইসরাইলী উপনিবেশিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা গাসসান দাঘলাস ডব্লিউএএএফএকে বলেছেন, ফিলিস্তিনের বুরাকা গ্রামের অধিবাসীদের নিজস্ব ভূমি অবৈধ ভাবে দখল করে নির্মিত অবৈধ ইহুদীবাদী ইসরাইলী কলোনি হোমেশে উড়ে এসে জুড়ে বসা অবৈধ উগ্র ইহুদীবাদী ইসরাইলীদের ১০ জনের অধিক সংখ্যক ইহুদী উদবাস্তু, তাদের বসতির নিকটে ভেড়ার পাল চরানো অবস্থায় অবরুদ্ধ সেই ফিলিস্তিনি এলাকার এক ফিলিস্তিনি রাখালকে আক্রমণ করে তার ৭০ সত্তরের অধিক ভেড়া ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

তদন্ত করে সেই রাখালটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। রাখালটির নাম, ‘হারবি আবদো’ তিনি পার্শ্ববর্তী গ্রাম বাইতে ইমরানের বাসিন্দা। তিনি ৫০ বছর বয়সী একজন ফিলিস্তিনি রাখাল।

ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্টের চিকিৎসকরা ‘আবদোর’ চিকিৎসা করেছিলেন, পরে তারা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানান যে, হারবি আবদোর শরীরের চারপাশে মারাত্মকভাবে আঘাতের ফলে কিছু ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে যার কারণে তিনি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন পাশাপাশি তার একটি পায়ে পচন দেখা দিয়েছে।

ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এবং তাদের সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই উগ্র ইহুদীবাদী উদবাস্তুদের সহিংসতা পশ্চিম তীরে একটি নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এসমস্ত সহিংসতার বিরুদ্ধে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রশাসন খুব কমই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

‘ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি জবরদখল’, ‘মসজিদ সহ বিভিন্ন কিছুতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া’,‘পাথর নিক্ষেপ করা’, ‘ফসল ও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত উন্নত মানের জলপাই গাছগুলো উপড়ে ফেলা’, ‘অরক্ষিত বাড়িগুলোতে হামলা করা’ সহ আরো অন্যান্য সহিংসতাও এই অবৈধ উগ্র ইহুদীবাদী উদবাস্তুদের নিত্যদিনের সহিংস কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।

পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের এই ঔপনিবেশিক অবৈধ বসতিগুলোতে প্রায় ৮৩৪,০০০ আট লক্ষ চৌত্রিশ হাজার উগ্র ইহুদীবাদী ইসরাইলী উদবাস্তু বসতি স্থাপন করছে।

১৯৩৩ সালের অসলো চুক্তির পর থেকে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইহুদী উদবাস্তুদের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। তখন ইহুদী উদবাস্তুদের সংখ্যা আনুমানিক ২৫২,০০০ দুই লক্ষ্য বায়ান্ন হাজার ছিল।এই সময়ের মধ্যে অবৈধ ঔপনিবেশিক বসতিগুলির সংখ্যা ১৪৪ থেকে থেকে বেড়ে ৫১৫ তে উন্নিত হয়েছে।

ইসরাইলের সংবিধানে ‘দেশ-রাষ্ট্রীয় আইন’ হিসেবে লেখা আছে যে, ‘জনবসতি গড়ে তোলা’ এবং ‘শক্তিশালী করা’ একটি ‘জাতীয় স্বার্থ’।