ডেডলাইন ৫ ডিসেম্বর : উত্তপ্ত রাজনীতি

ডিসেম্বর ১, ২০১৯ | মারজান হোসাইন চৌধুরী

কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৫ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। আর ওই দিনটিকে ঘিরেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গণ।

বিএনপি নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ৫ ডিসেম্বরেই খালেদা জিয়াকে জামিন দিতে হবে। অন্যথায় সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু করা হবে।

পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা করলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ নভেম্বর। এদিন হাইকোর্টের সামনে বিক্ষোভ করে বিএনপির সমর্থক ‘রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’। এ সময় বিএনপির কর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গ পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “শেখ হাসিনার জনপ্রিয় সরকারকে হটানোর চক্রান্ত এখনো চলমান আছে। আপনাদের সর্তক থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপির আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। তারা যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়, আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়, তবে তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।”

অন্যদিকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “সরকারের ইচ্ছায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার জামিন আটকে দেয়া হচ্ছে। ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু হবে।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সত্যিকার অবস্থা দেশের মানুষ জানতে পারবে।”

সরকার পতনের ঘণ্টা বেজে গেছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

জানা গেছে ওইদিনকে ঘিরে উচ্চআদালতের ভেতরে-বাইরে বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

মূলত এসব কারণেই হঠাৎ করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। আর সাধারণ মানুষের মধ্যে কাজ করছে কৌতূহল ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছর দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আগামী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মূলতবি করেছেন আদালত। এই সময়ের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার সবশেষ প্রতিবেদন দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে প্র্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও খালেদা জিয়াকে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ৫ বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ওই মামলায় তার ১০ বছর দণ্ড হয়। অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসার জন্য বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।