আখাউড়ায় জুয়া খেলা অবস্থায় শ্রমিক লীগ অফিস থেকে ১৬ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

অক্টোবর ৯, ২০১৯ নিজস্ব প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার  রেলওয়ে শ্রমিক লীগ অফিসে  অভিযান চালিয়ে ১৬ জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় জুয়া খেলার সরঞ্জামাদি ও নগদ ২৪ হাজার ৪১০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (০৯ অক্টোবর ) রাত আটটার দিকে আখাউড়া পুলিশ এই সফল অভিযান পরিচালনা করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আখাউড়া রেলওয়ে থানা থেকে মাত্র ১০ গজ দূরে জুয়াড়িদের এ আস্তানা বিশেষ সমঝোতায় এতোদিন সুরক্ষিত ছিল । থানা  সংলগ্ন রেলওয়ে ক্লাব ও রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কার্যালয়ে জুয়ার আসর বসতো।এই ক্লাবই ছিল জুয়ার স্থানীয় কেন্দ্রস্থল। যেখানে এলাকার পাশাপাশি দূর-দুরান্ত থেকে জুয়াড়িরা নিয়মিত জুয়া চর্চা করতো। সারাদেশে চলমান  অভিযানের কারণে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রেলওয়ে ক্লাবটিতে জুয়া চর্চা বন্ধ থাকে। ক্লাবে বন্ধ রাখরেও তার পাশেই শ্রমিক লীগ অফিসের আড়ালে চালিয়ে নিচ্ছিলো পুরনো কারবার।অবশেষে আইনমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আনিসুল হকের নির্দেশনার পরই পুলিশ আকস্মিক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের আব্দুর রহমান (৪০), হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার রহিজ উদ্দিন (৪০), আখাউড়া দেবগ্রামের শেখ কাজল (৩৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কোড্ডার মো. হুমায়ুন কবির (৪৫), বাবুল ভূইয়া (৫০), জাহাঙ্গীর খলিফা (৫০), আইয়ুব মিয়া (৫৫), সুশেন খলিফা (৫০), চান্দির শফিকুল ইসলাম (৫৫), শ্যামনগরের নির্মল দাস (৩২), সজিব দাস (৩০), খলিলুর রহমান (৫০), ফেণী দাগনভূইয়ার মো. শাহ আলম (৫০), আখাউড়া কুমারপাড়া কলোনীর কাউছার আলী (৫০), অরুণ চন্দ্র দাস (৪২) ও রেলওয়ে কলোনীর নজরুল ইসলাম (৫৭)।

আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, জুয়ার আসর বিষয়ে খবর পাওয়া মাত্রই অভিযান চালানোর জন্য আইনমন্ত্রী পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এবং বলে  দিয়েছেন যেন এ নিয়ে কেউ তদবির না করে।

আখাউড়া থানার ওসি মো. রসুল আহমেদ নিজামী ও পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আরিফুল আমীন জানান, শ্রমিক লীগের অফিসটিতে নিয়মিত জুয়ার আসর বসতো বলে অভিযোগ রয়েছে। সে মোতাবেক তথ্য পেয়ে অভিযান চলে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।