হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. ও মুফতি আমীমুল ইহসান মুজাদ্দেদী বরকতী রহ. এর নাম অন্যায়ভাবে স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকায় অন্তর্ভূক্তি ও সড়ক থেকে নাম অপসারণ, মসজিদের নগরী ঢাকায় মূর্তি স্থাপন, পাঠ্যসূচীকে নাস্তিক্যবাদী ও হিন্দুয়ানীকরণ, স্কুলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সিনেমা প্রদর্শনের উদ্যোগসহ আলেমসমাজ, মসজিদ, মাদরাসা ও ইসলামী জনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আগামী ৬  অক্টোবর বাদ জুম’আ, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, উত্তরগেটে মহা সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটি।

আজ পুরানা পল্টনের ভোজন রেস্টুরেন্ট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আতাউল্লাহ হাফেজ্জী’র পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সদস্য সচিব মাওলানা মাহফুজুল হক।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়,  সরকার ও সিটি কর্পোরেশন স্বপ্রণোদিত হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ভবনের সম্মুখস্থ সড়কটির নাম ‘হাফেজ্জী হুজুর সড়ক’ রাখেন। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন মেয়র মোহাম্মাদ হানিফের ইচ্ছা ও অনুমোদনেই এ নামকরণ হয়। দীর্ঘদিন এ নাম বহাল থাকার পর শাহরিয়ার কবির ও মুনতাসীর মামুনের করা রিটের ভিত্তিতে স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের নাম সড়ক, স্থাপনা ও স্থান থেকে তুলে দেয়ার একটি রায় আদালত থেকে বের হওয়ায় হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. ও মুফতি আমীমুল ইহসান রহ. এর নাম সড়কের নাম ফলক থেকে মুছে ফেলা হয়। অথচ ঐ মামলায় প্রাথমিক যে তালিকা নিয়ে জনাব শাহরিয়ার কবির ও মুনতাসীর মামুনের পক্ষ থেকে রিট করা হয়েছিল তাতে হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. ও মুফতি আমীমুল ইহসান রহ. এর নাম ছিল না , তারা পরবর্তীতে উদ্ধ্যেশ্য প্রণোদিত ভাবে একটি সম্পূরক তালিকা সংযোজিত করে আলোচ্য অপরাধে যুক্ত নন এমন কিছু ব্যক্তির নামও অন্তর্ভূক্ত করেছে বলে দেখা গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুজুর্গ, তওবার রাজনীতির প্রবর্তক, দেশের প্রবীণতম আলেম, হযরত মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর নাম অন্যতম। যিনি চল্লিশের দশক থেকে ইসলাম প্রচার, ধর্মীয় শিক্ষা ও আদর্শের প্রসার, সমাজসেবা, আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শন ইত্যাদির মধ্য দিয়ে নিজেকে অকল্পনীয় উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেন। অনন্য সাধক প্রায় শতায়ূ এ বুজুর্গ মনীষী তওবার রাজনীতির ডাক দিয়ে একাধিকবার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করেন। তাছাড়া দেশের আরেক মনীষী বায়তুল মোকাররমের প্রথম খতীব ও মাদরাসা-ই আলিয়া ঢাকা’র স্বনামধন্য প্রধান শিক্ষক মুফতি আমীমুল ইহসান মুজাদ্দেদী বরকতী রহ.-এর নামও রয়েছে এ তালিকায়। রাজধানীসহ সারাদেশে তাঁদের অসংখ্য-ছাত্র-ভক্ত ও গুণগ্রাহী ছড়িয়ে আছেন। স্বাধীনতা বিরোধী ব্যক্তিদের তালিকায় হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. ও মুফতি আমীমুল ইহসান মুজাদ্দেদী বরকতী রহ.-এর নাম দেখে দেশবাসী সীমাহীন বিস্মিত ও হতবাক।

সুশিক্ষা জাতির মেরুদ-। সুশিক্ষার মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে আদর্শ নাগরিক উপহার দেওয়া প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। দেশে সুশিক্ষার অভাবে আদর্শ মানুষ তৈরি হচ্ছে না। সর্বত্র অনিয়ম, দুর্নীতি, ইভটিজিং, নারীর প্রতি সহিংসতার ব্যাপক সয়লাব চলছে। এ দুরবস্থা থেকে উত্তরণে ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করতে হবে। কিন্তু সরকার তা না করে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি কতৃক দেশীয় চলচ্চিত্রে দর্শক টানার নামে স্কুলশিক্ষার্থীদের সিনেমা দেখানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সিনেমা দেখানোর ব্যবস্থা করলে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। এই সিদ্ধান্ত ছাত্রসমাজের নৈতিক চরিত্র এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। এদেশের তৌহিদী জনতা এই সিদ্ধান্ত কিছুতেই মেনে নিবে না। যে কোন মূল্যে তা প্রতিহত করবে।

ইসলামী ও নৈতিক শিক্ষার অভাবেই জাতি আজ অধপতনের পথে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট ধারী লোক বের হচ্ছে ঠিকই কিন্তু দেশে আদর্শ নাগরিক তৈরী হচ্ছে না। যার ফলে সর্বত্র অনিয়ম, দূর্নীতি ও অপকর্মের প্রতিযোগিতা চলছে। এক মাত্র কুরআন-হাদীসের সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থাই পারে দেশকে আদর্শ নাগরিক উপহার দিতে। অতএব স্কুল-কলেজে আধুনিক শিক্ষার পাশা-পাশি শিক্ষার্থীদের যত বেশি ইসলামী শিক্ষা দেয়া যাবে তা দেশের জন্য কল্যানকর হবে। নাস্তিক্যবাদের প্ররোচনায় পুনরায় পাঠ্যসূচী পরিবর্তন করে ধর্মহীন শিক্ষাব্যবস্থা চাপিয়ে দিলে তা দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিবে। দেশ ও জাতি ধ্বংসের এ ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না ।
যেহেতু বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশ, তাই মুসলিম ঘরানার শিক্ষাবিদদের নিয়ে পাঠ্যবই থেকে বিতর্কিত বিষয়গুলো বাদ দিয়ে ইসলামী ভাবধারার বিষয় সমূহ সংযুক্ত করে একটি সার্বজনিন পাঠ্যসূচী প্রণয়ন সময়ের দাবি। আশাকরি সরকার সকল ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক থেকে সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানদের গণতান্ত্রিক দাবি মেনে নেবেন।

কোন দেবী বা তার ভাস্কর্য ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার শক্তি রাখে না। সমগ্র পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহই মানুষের ভাল-মন্দ,ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার শক্তি রাখেন। মূর্তি স্থাপন সরাসরি আল্লাহর সাথে বিদ্রোহের শামিল। বাংলাদেশ শতকরা ৯৫ ভাগ মুসলমানদের দেশ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন সুপ্রিম কোর্টে মূর্তি স্থাপন ইসলাম ও মুসলমানদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের উপর চরম আঘাত। এতে দেশের জনগণ ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। কতিপয় ইসলাম বিদ্ধেষী কুচক্রী মহল জনগণের কাছে সরকারের ভাব-মর্যাদা নষ্ট করার জন্য ব্রাক্ষন্যবাদীদের অনুকরণে মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। দেশের শীর্ষ আলেমদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদার পরও কি ভাবে সুপ্রিম কোর্টে মূর্তি পুনঃস্থাপন হল তা জাতি জানতে চায়। আশা করি সরকারের শুভবুদ্ধী উদয় হবে এবং মূর্তি সংস্কৃতির চির অবসান ঘটবে। অন্যথায় দেশের জনগণ তাদের ঈমান-আকিদা, ধর্মীয় আদর্শ ও ঐতিহ্য রক্ষায় কঠিন কর্মসূচি নিয়ে আন্দোলনে নেমে পরবে।

দেশের সর্বজনমান্য এক আধ্যাত্মিক মনীষীর প্রতি এ অবিচার যেমন জাতির জন্য কলঙ্কজনক তেমনি তা বর্তমান সরকারের বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যও একটি লজ্জাজনক ঘটনা। তাই আশাকরি আদালতের রায়টি পুনঃবিবেচনা করে সিদ্ধান্তটির সংশোধনের মাধ্যমে আলোচ্য তালিকা থেকে নিরপরাধ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে হাফেজ্জী হুজুর ও মুফতি আমীমুল ইহসানের নাম সড়কে পুনর্বহাল করবেন। আজকের এ সংবাদ সম্মেলনে ইসলাম, দেশ ও দেশের জনগণের কল্যানে যে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হলো অতিব গুরুত্ব সহকারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয়, সরকার ও বিচারালয় সংশ্লিষ্টগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশা রাখি। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে দেশবাসীকে আশ^স্ত করবেন এ আমাদের দৃঢ় প্রত্যাশা।

ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটি এদেশের ইসলামপ্রিয় কোটি-কোটি মানুষের হৃদয়ের দাবী ও আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরছে। আশাকরি আলেম-ওলামা ও ইসলাম প্রিয় জনতার দাবী বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ নিবেন। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাওহিদী জনতার এ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আরো উপস্থিত ছিলেন,  মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা এ টি এম হেমায়েত, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মুজিবুর রহমান হামিদী,  মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মুফতী মুসা বিন ইজহার, মাওলানা সানাউল্লাহ প্রমুখ।