আমেরিকায় অভিবাসন স্থগিতের মেয়াদ দুই মাস

আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস বা অভিবাসন স্থগিত করার নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ট্রাম্প জানান। খবর পার্সটুডে’র।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সই হওয়া নির্দেশটি দুই মাসের জন্য কার্যকর হবে। তবে প্রয়োজনে পরবর্তীকালে সেটির মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানান ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি ফের সচলের পর সব বেকার মার্কিন নাগরিকদের যেন কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তা এ নির্দেশটি নিশ্চিত করবে।’

ট্রাম্প আরও জানান, ভাইরাসের কারণে যেসব আমেরিকান চাকরিচ্যুত কিংবা কর্মহীন হয়েছেন, তাদের জায়গায় শ্রমিক হিসেবে বিদেশ থেকে আসা নতুন অভিবাসীদের নেয়া হবে, এটা অন্যায় ও ভুল। সবার আগে আমেরিকার শ্রমিকদের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।

ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চাচ্ছেন এমন বৈধ অভিবাসীরা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন হবেন। তবে দেশটিতে প্রতি বছর অস্থায়ীভাবে কাজের জন্য অভিবাসীদের যে ভিসা দেয়, তাতে এ স্থগিতাদেশের কোনো প্রভাব পড়বে না। এছাড়া, ইতোমধ্যে আমেরিকায় থাকা মার্কিন নাগরিকদের স্ত্রী বা স্বামী ও সন্তান এবং চিকিৎসক, নার্স বা অন্য স্বাস্থ্যকর্মী যারা দেশটিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও এ আদেশ কার্যকর হবে না।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর বেশ কয়েকবার অভিবাসীদের উপর নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৮ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে বলেছে যে, নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে মনে করলে বিদেশি নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট কিছু গ্রুপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ থেকে বিরত রাখতে পারেন ট্রাম্প।

তার আমলে ২০১৯ সালে আমেরিকা অভিবাসন ভিসা দিয়েছে ৪ লাখ ৬২ হাজার। বারাক ওবামার আমলে ২০১৬ সালে অভিবাসন ভিসা দেওয়া হয়েছিল ৬ লাখ ১৭ হাজার। এবার আবার করোনা ক্রমশ আমেরিকার অর্থনীতিতে গ্রাস করতে থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে আরও কঠোর হচ্ছে।

আমেরিকার জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ লাখ ২৮ হাজার ৫২৭ জন এবং মারা গেছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৪ জন।

আক্রান্ত ও মৃত্যু—দুটোতেই সব দেশকে অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বে মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রায় এক–তৃতীয়াংশই ক্ষমতাধর ওই দেশে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৪১ হাজার ৫৫৬ জন এবং মারা গেছেন ৪৬ হাজার ৭৬৯ জন।