আরবের টিভি সিরিজে ফিলিস্তিনের প্রতি বিদ্বেষ ও ইহুদিবাদী ইসরাইলকে প্রমোট করা হচ্ছে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নাহিয়ান হাসান


দখলদার ইসরাইলের বিরোধিতা করা আরব রাষ্ট্রগুলোই এখন ফিলিস্তিনি মূল্যবোধ মিটিয়ে দিতে ‘টিভি সিরিজের মাধ্যমে’ ইসরাইলের হয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

‘ফিলিস্তিনিয় ইতিহাসবিদ ও পরিসংখ্যানবিদগণ’ সৌদি টিভি সিরিজ যা “আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ দখল চালিয়ে যাওয়া দখলদার ইহুদীবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখাকে প্রমোট করে” তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

‘উম্মে হারুন’ এবং ‘এক্সিট ৭’ (Exit 7) নামের দুটি সৌদি টিভি শো যা দুবাই-ভিত্তিক মিডিল ইস্ট ব্রডকাস্টিং সেন্টার (এমবিসি), সৌদি টিভি নেটওয়ার্ক দ্বারা সম্প্রচারিত তা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, তারা বলেছেন, “সিরিজ দুটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্রয়ে অবৈধ দখলদারিত্ব চালিয়ে যাওয়া ইহুদীশক্তির সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাকে প্রমোট করছে”।

গত সপ্তাহে শুরু হওয়া মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাসে এই ব্রডকাস্টিং মিডিয়া প্রচুর নাটক এবং ধারাবাহিক সম্প্রচার শুরু করেছে যার মধ্যে ‘এই দুটি বিতর্কিত টিভি সিরিজও’ রয়েছে।

গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, টিভি নাটকগুলি এমন হওয়া উচিত যা “জনগণ এবং তাদের ধ্যানধারণাকে প্রকাশ করবে” টিভি নাটকগুলোতে অন্য কোনোকিছুর বহিঃপ্রকাশ মোটেও সমীচীন নয়।

তুরস্ক ভিত্তিক আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেছেন,” এই বছর নির্মিত কিছু আরব নাটক এই বিষয়টিকে সম্মান করেনি বরং তারা এই অদ্ভুত ধারণা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, “যা অবৈধ দখলদার রাষ্ট্রটির সাথে সহাবস্থান বজায় রাখার আহ্বান এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কারণ (জন্ম) নিয়ে প্রশ্ন করার দুঃসাহস প্রদর্শন করে”।

কাসেম নিশ্চিত করেছেন যে “ইহুদীবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল চিরকাল একটি হুমকি এবং সর্বদা আরব জাতির প্রথম শত্রু হয়ে থাকবে”।

ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদ আন্দোলনের মুখপাত্র মুসাব আল-ব্রাইমও এই ধরনের টিভি শো সম্প্রচারের নিন্দা করে এটিকে সমস্ত আরব ও মুসলমানদের জন্য “ইতিহাসগত আঘাত” বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন,”এই ধরনের ধারাবাহিকগুলো এমন মানসিকতাকে প্রতিফলিত করে যারা এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে পরিচালনা করে এবং এজাতীয় প্রযোজনার পিছনে রাষ্ট্রকে বলে, “এটি এই জন্য প্রদর্শিত হয়, যাতে তারা তাদের সমস্ত নৈতিক নীতি ছিনিয়ে নিতে পারে”।

অবরোধ করা গাজা উপত্যকায় সরকারী প্রেস অফিসের প্রধান সালামা মারুফ বলেছেন, টেলিভিশনের এধরনের ব্যবহার ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আরবদের যে প্রভাব রয়েছে তা পরিবর্তন করার আকাঙ্ক্ষাকে প্রমাণিত করে।

তিনি আরো বলেন, “ইসরাইলী অবৈধ দখলদার রাষ্ট্রের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান একটি মৌলিক ও নৈতিক অধঃপতন, বিশেষত এটি যেহেতু এমন দেশ ও দল থেকে প্রকাশ পেয়েছে যাদের উচিত ছিল ফিলিস্তিনের অধিকার সংরক্ষণে সর্বপ্রথম প্রতিবাদ করা। তবে জর্ডান এবং মিশর এর বিপরীত। কারণ উভয়েই ইহুদীবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল কিন্তু অন্য আরব রাষ্ট্রগুলি এই অবৈধ রাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করে তাদের নৈতিকতা সমুন্নত রেখেছিল।”

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন, যারা ঐতিহ্যগতভাবেই ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে সমুন্নত রেখে আসছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তারা ইরানকে আরও বড় আঞ্চলিক হুমকি হিসাবে দেখার ফলে ইসরাইলের আরও ঘনিষ্ঠ মিত্রতে পরিণত হচ্ছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মধ্য প্রাচ্যের পরিকল্পনাটি উন্মোচন করার সময় আরব রাষ্ট্রগুলি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া উপস্থাপন করেছিল। এই পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধতা ও দৃঢ়তার বিষয়টি অনুপস্থিত থাকায় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, “কিছু আরব রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইচ্ছার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে”।

এ সময় সৌদি আরব বলেছিল যে, ‘এটি’ “ট্রাম্পের প্রচেষ্টার সফলতা এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিনের সরাসরি আলোচনার আহ্বান করে”।

ট্রাম্পের প্রস্তাবটি “ফিলিস্তিনিদেরকে একচেটিয়াভূক্ত করেছে এবং ইউএনএসসি রেজোলিউশন ২৪২ ধারার লঙ্ঘন করছে। যে ধারায় ইসরাইলকে ছয় দিনের যুদ্ধে অধিগ্রহণ করা অঞ্চলগুলিতে শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি সেখান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়েছিল”।

এছাড়াও এটি “অবৈধ ইহুদি জনবসতি এবং জর্ডান উপত্যকাসহ দখলকৃত পশ্চিম তীরের বিশাল অংশকে একত্রিত করা” ও “জর্ডান নদীর তীরে ইহুদীবাদী ইসরাইলকে একটি স্থায়ী পূর্ব সীমান্ত সরবরাহ করার নামান্তর”।