আল মাহমুদ ও সফিউদ্দীন সরদারকে নিয়ে বিআইএম-এর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

এপ্রিল ১, ২০১৯

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট (বিআইএম) এর উদ্যোগে “আল মাহমুদ ও সফিউদ্দীন সরদার : আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল (৩১মার্চ) রবিবার, সন্ধায় পল্টনস্থ ইনসাফ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাসিক মদীনা সম্পাদক আহমদ বদরুদ্দিন খান, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ এর সহসম্পাদক আলী হাসান তৈয়ব ও ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট-এর সভাপতি, মাওলানা ওবায়দুর রহমান খান নদভী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিআইএম এর সম্পাদক সৈয়দ শামছুল হুদা।

মাসিক মদীনা সম্পাদক আহমদ বদরুদ্দিন খান তার বক্তব্যে বলেন, যারা আমাদের ঐতিহ্যের শেকড়, তারা ধীরে ধীরে আমাদের থেকে অনেকেই চলে যাচ্ছে, সর্বশেষ চলে যাওয়ার সেই মিছিলে যোগ দিয়েছেন বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান কবি, আমাদের যারা আত্মপরিচয়ের প্রতীকতুল্য, কবি আল মাহমুদ ও শেকড় সন্ধানী লেখক জনাব সফিউদ্দীন সরদার। বিশেষ করে সফিউদ্দীন সরদারকে যেভাবে আমার মরহুম পিতা, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম মহিরুহ, মাওলানা মহিউদ্দীন খান রহ. নওগাঁর এর সাহিত্য সভা থেকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে নিয়ে আসেন তা একটি বিরল ঘটনা। মাসিক মদীনা এবং মুসলিম জাহানের মাধ্যমে জাতি জানতে পারে একজন শক্তিমান লেখকের কথা। বাংলার আলেম সমাজ যখন ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন, তখন কেবলই মহানবী হজরত মুহাম্মাদ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী, খুলাফায়ে রাশেদীন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ বাগদাদের ইতিহাস পর্যন্ত আসেন। কিন্তু বিশাল ভারতে ৭শ’ বছরের মুসলিম শাসন সম্পর্কে ইতিহাসের তেমন কিছুই আলোচনায় আনতে পারেননি। কিন্তু একজন সফিউদ্দীন সরদার ভারতীয় মুসলিম শাসকদের ইতিহাস খুব চমৎকারভাবে তার লিখনীর মাধ্যমে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পেরেছেন। আল মাহমুদ এবং সফিউদ্দীন সরদার সম্পর্কে অনেক কথা অনেকের মধ্যে সঞ্চিত আছে। এগুলোকে যথাশীঘ্র সম্ভব স্মারক হিসেবে সংরক্ষণের জন্য তিনি জোর তাগাদা দেন।

আলী হাসান তৈয়ব বলেন, আত্মপরিচয়ের প্রতীকগুলোকে দাবিয়ে রাখা যায় না। কিন্তু কেউ কেউ দাবিয়ে রাখতে চেষ্টা করেছে। আল মাহমুদ এবং সফিউদ্দীন সরদার তেমনই দুজন ব্যক্তি, যাদেরকে দাবিয়ে রাখতে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তাদের সাহিত্য প্রতিভা, লিখনী শক্তিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারেনি।

সফিউদ্দীন সরদারের সাথে স্মৃতির কথা স্মরণ করতে গিয়ে আলী হাসান বলেন, একবার তাঁর বাসায় একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাতের জন্য যাই, তখন তাকে প্রশ্ন করা হয়, হুমায়ন আহমদ’রা কত স্বীকৃতি পেলো, পুরস্কার পেলো, আপনি এত লিখলেন, কিন্তু কোন স্বীকৃতি বা পুরস্কার পেলেন না, এতে কি কোন কষ্ট অনুভব হয় না? তখন উত্তরে যা বলেছিলেন, তাতে প্রাণটা ভরে গিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, আমি যা কিছু করেছি, সবকিছু আল্লাহর জন্য করেছি, সুতরাং কুরআন যেমন মুসলমানদের স্থায়ী সম্পদ, তেমনি আমার এসব রচনা স্থায়ী হিসেবেই থেকে যাবে। এটাই বড় অর্জন।মানুষ এসব পড়তে নিরুৎসাহিত করলেও ইতিহাসের প্রয়োজনে এসব লিখনী একদিন পড়বে, স্মরণ করবে।

ইনসাফ সম্পাদক সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার বলেন, সাহিত্য চর্চার নামে আজ যা হচ্ছে, তা অতি দুঃখজনক। বিশেষ করে কওমী অঙ্গনে পড়াশুনা করা অনেককেই দেখা যায় সাহিত্য চর্চার নামে ইসলামের শত্রুদের এজেন্ডা গুলোকে নিজেদের এজেন্ডা বানিয়ে নিচ্ছে। সাহিত্যিক হতে হলে যেন ইসলাম থেকে একটু দূরে সরতেই হবে। তাদের আচরণে মনে হয় ইসলাম যেন ঠিক সাহিত্যের সাথে যায়না! যা অবান্তর।

তিনি আরো বলেন, ইদানীংকালে তো আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের দেশের ইসলামী ধারার রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের সেকুলার প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ স্লোগানেও পরিবর্তন আনছে। পতিত বামদের মত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাও শুরু করেছে অনেকে। এগুলোর কোনটাই আমাদের জন্য শুভকর হতে পারেনা।

তিনি আল মাহমুদ ও সফিউদ্দীন সরদার সম্পর্কে বলেন, তারা ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী সাহিত্যিক। তারা জনগণের কথা বলতেন। জনগণের চিন্তাকে সাহিত্যে ফুটিয়ে তুলতেন। আমি তাদের ইসলামী ধারার সাহিত্যিক বলতে নারাজ, তবে তাদের সাহিত্যে ইসলাম ফুটে উঠেছে। ইসলামকে তারা সাহিত্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ইনসাফের উপদেষ্টা সম্পাদক মুসা বিন ইজহার, প্রথম আলোর ধর্ম পাতার নিয়মিত লেখক শাইখ মুহাম্মদ উসমান গনী, আরবী ভাষা ও সাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক, মাওলানা মহিউদ্দীন ফারুকী, মাওলানা রুহুল আমীন নগরী, সাওতুল হেরা পত্রিকার সম্পাদক মাওলানা শুয়াইব আহমদ, ডেইলী সান এর নিয়মিত কলামিষ্ট, খতীব ও লেখক মাওলানা যুবায়ের আহমদ, দৈনিক ইনকিলাব এর বিভাগীয় সহকারী আব্দুল্লাহ মোঃ আলাউদ্দীন, রংধনু শিল্পী গোষ্ঠীর পরিচালক মাওলানা মাইনুদ্দিন ওয়াদুদ প্রমুখ।