আসুন এই দুঃসময়ে অধীনস্থদের সাথে ভালো আচরণ করি, তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেই

ডক্টর তুহিন মালিক | সংবিধান বিশেষজ্ঞ


সাবধান হই। আগামীকাল ১ তারিখ। মাসের শুরু। আমাদের ড্রাইভার, কাজের বুয়া, অফিস-দোকানের কর্মচারী ও আমাদের অধীনস্থরা কালকে বেতনের জন্য আসবেন। দয়া করে আমরা যেন তাদেরকে তাড়িয়ে না দেই। তাদের শ্রমের ন্যয্য পারিশ্রমিক আদায় করে দেই। তাদের হক নষ্ট না করি। বাসাবাড়িতে ঢুকতে না দিলেও অন্তত তাদের সাথে দূর্ব্যবহার না করি। এপার্টমেন্ট ভবনে ইন্টারকমে তাদের সাথে কথা বলি। দুর থেকে হলেও তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করি। তাদের পরিবারের কুশল জিজ্ঞাস করি। মনে রাখি, তারা ফকির-মিসকিন নয়। বরং তারা আমাদের পাওনাদার। ধরুন, ব্যাংক বা এনবিআর আমার কাছ থেকে টাকা পায়। আর আমি কি তাদের সাথে এরকম দূর্ব্যবহার করার সাহস রাখি?

এই মহামারী দূর্যোগের সময় সবারই আর্থিক অবস্থা খারাপ। আর সেই অযুহাতে গরীবের হক নষ্ট না করি। গতমাসে গাড়ি চলেনি। আমাদের তেল-গ্যাসের টাকা বেচেছে। ট্যাক্সি ক্যাব, উবার, সিএনজি, বাস, রিকশার যাতায়াত খরচ বেচেছে। বন্ধু-বান্ধবীর সাথে হ্যাং আউটের খরচ বেচেছে। সেলুন-বিউটি পার্লার, ক্যাফে, লাউজ্ঞ, রেষ্টুরেন্ট, টেইলার, শপিংয়ে খরচ কমেছে। জন্মদিন, গেট টুগেদার, পার্টি, বিয়েশাদীর উপহার, নতুন পোষাক, প্রসাধনীর খরচ বেচেছে। গতমাসের এই সাশ্রয়ের টাকা থেকে আমরা কি কিছুটা হলেও আমাদের অধীনস্থদের সাথে শেয়ার করতে পারি না?

আলহামদুলিল্লাহ, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো হাসপাতাল বানাচ্ছে, প্রচুর মানুষ এবং বিভিন্ন সংগঠন দুঃস্থদের মাঝে খাবার দিচ্ছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে। বেশীরভাগই গোপনে। আর আমরা কি আমাদের অধীনস্থদের এতটুকু পাওনা ফেরত দিতে পারি না? এপ্রিল মাস কিন্তু পবিত্র রমজানের মাসও। গরীব দুঃখিদের রোজা রাখতে সহযোগিতা করি। যাকাতের জন্য রমজানের অপেক্ষা না করে, অভুক্ত কর্মহীনদের গোপনে জাকাতটা দিয়ে দেই। তাদেরকে জাকাত বলার দরকার নেই। জানলে লজ্জা পাবেন। আমার আল্লাহ জানলেই যথেস্ট। আর রমজানের ৭০ গুন সওয়াব। আল্লাহ চাইলে এরচেয়েও অকল্পনীয় বেশী গুন সওয়াব দিবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ পরিমান, সময়, হিসাব পত্রের দিকে তাকান না। আল্লাহর দৃষ্টি আমাদের অন্তরে।

 সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম  ফেসবুক  থেকে নেয়া