আয়াসোফিয়ার ইমাম ও খতিব শাইখ ফুরুহ মুশতাওয়ার

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নাহিয়ান হাসান মাহির


আয়াসোফিয়ায় তার হৃদয়গ্রাহী তারতীলপূর্ণ সূরা ফাতিহার তিলাওয়াত শুনেই শ্রোতাদের এই ব্যাপারে বিশ্বাস হয়ে গিয়েছিল যে, এই সুকণ্ঠধারী ক্বারী সাহেবই জাদুঘর থেকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর আয়াসোফিয়ার প্রথম ইমাম নিযুক্ত হতে যাচ্ছেন।

বর্তমান আয়াসোফিয়ার প্রথম এই ইমাম যিনি সূরা ফাতিহার হৃদয়গ্রাহী তারতীলপূর্ণ তিলাওয়াত শুনিয়ে শ্রোতাদের মন জিতে নিয়েছেন তিনি হলেন,শাইখ আল হাফিজ ফুরুহ মুশতাওয়ার।

গেলো মে’র ২৮ তারিখে কনস্টান্টিনোপল বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়াসোফিয়ায় আয়োজিত কনস্টান্টিনোপল বিজয় স্মরণী অনুষ্ঠানে পবিত্র কালামুল্লাহ পাকের উদ্বোধনী তিলাওয়াত করার জন্য তাকে প্রথম দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। তার দু’মাসেরও কম সময়ে জাদুঘর থেকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের পর তাকে আয়াসোফিয়ার প্রথম ইমাম হিসেবে নিয়োগের সুসংবাদ দেওয়া হয়।

শাইখ আল হাফিজ ফুরুহ মুশতাওয়ার বিবাহিত এবং তিন সন্তানের জনক। তার জন্ম ১৯৭১ সনে। তিনি বসনিয়ার বসনাকী বংশোদ্ভূত। তার মা সারাজেভোর অঞ্চল এবং বাবা রাষ্ট্রের সাঞ্জাক (নির্দিষ্ট দেশ বা সাম্রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক বিভাগ) অঞ্চলের বাসিন্দা। ১৮৯৩ সনে অস্ট্রো-হাঙ্গেরী, বসনিয়ায় তাদের দখলদারীত্ব অভিযান চালিয়ে তা দখল করে নিলে তার পরিবার হিজরত করে তুরস্কে চলে আসে এবং অন্যান্য বসনিয়ানদের সাথে তুরস্কের তাশশাইজিয়া নামক গ্রামে বসবাস শুরু করেন। এই গ্রামটি তুরস্কের পশ্চিমে কুতাহইয়া শহরের নিকটে অবস্থিত।

বসবাস সূত্রে তিনি তুর্কী হলেও বসনিয়ার প্রতি তার ভালবাসা একটুও কমেনি এবং বসনিয়ানরাও তাকে অনেক ভালবাসে ও সম্মান করে। সর্বশেষ ২০১৮ সালেও বসনিয়ার সারাজেভোতে তাকে একটি কুরআন তিলাওয়াতের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিলে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে তার হৃদয়গ্রাহী তারতীলপূ্র্ণ তিলাওয়াত শুনিয়ে কুরআনের খেদমত করেছিলেন।

এমনকি আজ শুক্রবার (২৪জুলাই) বর্তমান আয়াসোফিয়া মসজিদের প্রথম ইমাম নিয়োগের খবরে বসনিয়ায় আনন্দ উদযাপিত হয় এবং এই সংবাদটি তাদের পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতায় স্থান পায়।

বর্তমান ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়া মসজিদের প্রথম ও নবনিযুক্ত ইমাম ছোটবেলা থেকেই কুরআনে আসক্ত ছিলেন।

তিনি তার গ্রামের এক মসজিদে পবিত্র কুরআন পাঠ করা শিখেন। এমনকি মাত্র ১১ বছর বয়সেই তিনি পুরো কালামুল্লাহ পাকের হিফজ সম্পন্ন করেছিলেন। শুধুমাত্র হিফজ সমাপ্তিতেই তিনি দমে যাননি বরং ধর্মীয় বিষয় নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেন।

শাইখ ফুরুহ মুশতাওয়ার, ১৯৯৬ সনে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হলে তুরস্কের কুতহাইয়াহ’র এক মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন।

অতপর ২০০৬ এর দিকে তিনি অস্ট্রিয়া গমন করেন এবং সেখানকার এক জামে মসজিদে ২০০৬-২০১০ পর্যন্ত ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন।

অস্ট্রিয়া থেকে তুরস্কে ফিরে আসার পর ২০১৩ তে ইস্তাম্বুলের অন্যতম প্রসিদ্ধ মসজিদ ‘জামে ইয়েনি’তে তাকে ইমাম নিযুক্ত করা হয়।

তুরস্কের ধর্মীয় দিয়ানাত বিভাগ তাকে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য তুরস্কের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছিল।

২০১৫ সনে অনুষ্ঠিত সেই কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতায় তার অভিজ্ঞতা শুধু অংশগ্রহণেই থেমে ছিল না বরং প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে তবেই তিনি দেশে ফিরেছিলেন।

জাদুঘর থেকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়া জামে মসজিদের প্রথম ইমাম নিযুক্ত করার ফলে তিনিও গৌরবময় ইতিহাসের অংশ হয়ে যান।

সূত্র: আল জাজিরা