ত্রাণ চাওয়ায় যুবককে তুলে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের মারধর

কুমিল্লায় অসহায়দের জন্য ত্রাণ চাওয়ায় আশেকে এলাহী নামক এক যুবককে চৌকিদার দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। মারধর ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করার ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ১০নং দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়ন পরিষদে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আশেকে এলাহী জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় ১১০ জনকে ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছেন। এরপর স্থানীয় আরও অনেকে তার আছে এলে তিনি তাদের ত্রাণ সামগ্রী দিতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের আব্দুল হাকিম খানকে অনুরোধ জানান। তার অভিযোগ, ৭৯ জন দরিদ্র ও দিনমজুরের তালিকা করি। স্থানীয় মেম্বারের কাছে আবেদন জানানো হয়। মেম্বার জানায় চেয়ারম্যানের কাছে যেতে। চেয়ারম্যানের কাছে যাওয়ার পর তিনি আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছেন।

চেয়ারম্যান ত্রাণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তালিকা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছেও আমি যাই। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করার অভিযোগ এনে চারজন চৌকিদার দিয়ে তাকে তুলে আনতে পাঠান চেয়ারম্যান আব্দুল হাকীম। তারা আমাকে বলেন যাদের তালিকা দিয়েছি তাদের ত্রাণ দিবে। পরে আমি চেয়ারম্যানকে ফোন করি। তিনি আমাকে যেতে বলেন। ফোন চৌকিদারদের দিলে তিনি আমার সামনে চৌকিদারদের বলেন, আমার যেন পা মাটিতে না পড়ে সেভাবে তুলে নিয়ে যেতে। পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়রাও আমার সঙ্গে চেয়ারম্যানের কাছে যান। বাড়ি থেকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আমায় দফায় দফায় তিনবার মারধর করা হয়েছে।

তিনি জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় এবং ফেসবুকে চেয়ারম্যানের পক্ষে ভিডিও বার্তা দেয়ার পর বিকাল ৪টায় তাকে সেখান থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে এবিষয়ে কোনো সক্রিয়তা দেখালে তার বিরুদ্ধে পঞ্চাশটির বেশি মামলার হুমকি দেন চেয়ারম্যান।

যুবককে মারধরের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পরও বিষয়টি অস্বীকার করে গুনাইঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকীম জানান, পরিষদে কাউকে মারধরের ঘটনা ঘটেনি। যাকে পরিষদে আনা হয়েছে সে আমার ভাতিজা। আমি তাকে কোনো মারধর করিনি।