এনআরসি ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদির আশ্বাসেই ভরসা রাখছে বাংলাদেশ: গওহর রিজভী

অক্টোবর ১০, ২০১৯ সাঈদ মুহাম্মাদ

ভারতের নতুন নাগরিকপঞ্জিতে আসামের ১৯ লক্ষ মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া এবং গণমাধ্যমে তাদেরকে বাংলাদেশে পুশব্যাকের ঘোষণা আসায় বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা গওহর রিজভী।

তিনি বলেন, নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া লোকজন যদি প্রকৃতই বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ কারী হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি আমাদের যাচাই-বাছাইয়ে “প্রমাণিত” হলে তাদেরকে বাংলাদেশ ফেরত নিবে।

গত ৬ অক্টোবর ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে গওহর রিজভী বলেন, ভারতের রাজনীতিবিদরা বিভিন্ন সভা–সমাবেশে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে তীর্যক মন্তব্যগুলো করছেন এসব বিষয়ে ঢাকা উদ্বিগ্ন নয়।

উল্লেখ্য এনআরসিকে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করার চেষ্টা করছে।

গত সপ্তাহে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহা পশ্চিমবঙ্গে এক র‍্যালিতে আসামের নাগরিক তালিকায় বাদ পড়া লোকদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে মন্তব্য করেছিলেন।

তিনি এটাও জানিয়েছিলেন যে, তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গওহর রিজভী বলেন, “এগুলো হল ঐ সমস্ত বিষয় যা ভারতের মন্ত্রীরা বিভিন্ন সভা–সমাবেশে জনগণকে বলছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে আমাদের সরাসরি কথা হয়েছে, তার কথায় আমরা এমন কোনো ইঙ্গিত পাইনি।

তবে ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের মৃদু সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “পত্র-পত্রিকায় প্রচারিত সংবাদগুলো অহেতুক উদ্বেগ তৈরী করে।”

আট বছর থেকে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে গওহর রিজভী বলেন, “বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিকের এই ধারণা তৈরী হয়েছে যে, ভারত তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।”

উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফরে বিদ্যুৎ, পানি ও বঙ্গোপসাগরে উপকূলীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।