বুয়েটের ভিসি বললেন, ‘পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না’

অক্টোবর ১১, ২০১৯ অনলাইন ডেস্ক 

সরকারের সমালোচনা করায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শের-ই-বাংলা হলের ভেতরে ছাত্রলীগের হাতে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ড. সাইফুল ইসলামের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন বুয়েটের সাবেক শিক্ষক ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী।

ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর এই দাবিকে যুক্তিযুক্ত মনে করেন না বলে জানিয়ে ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘(পদত্যাগের) প্রশ্নই ওঠে না কারণ, আমার এখানে কোনও অন্যায় নেই। আমি আমার ডিউটি পালন করেছি।’

উপাচার্য সাইফুল ইসলাম ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী সম্পর্কে বলেন, ‘উনি আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ওখানে কাজ ফেলে এখানে এসে আমার সঙ্গে কথা না বলে আমার পদত্যাগ চাইলেন কী করে? এটা এথিক্যাল হলো না। উনি সম্মানিত ব্যক্তি, আমি সবসময় সম্মান করে কথা বলি উনাকে। উনাকে অনেকসময় টেলিফোনও করি। কালকে আমি কুষ্টিয়া গেলাম, উনি এখানে এসে এ কথা বললেন। এটাতো যুক্তিযুক্ত কথা হলো না। একটা ঘটনা ঘটেছে, পূর্বাপর না জেনে কয়েকজনকে নিয়ে একথা বললেন। উনি এতবড় জ্ঞানী পণ্ডিত হয়ে এটা কিভাবে বললেন? আমি দুঃখিত ও মর্মাহত হয়েছি।’

খুনের ঘটনায় নিজের ব্যর্থতা আছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, না আমার ব্যর্থতা কী করে হবে? আমি চেষ্টার কোনও ত্রুটি করিনি। আমি তো আইডেন্টিফাই করতে পেরেছি আগেই। ডিএসডব্লিউ (ছাত্র কল্যাণ পরিচালক) চেঞ্জ করলাম।

ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য কী ধরনের ব্যবস্থার কথা ভাবছেন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাকে এখন কড়া ডিএসডব্লিউ নিয়োগ দিতে হবে। এই কাজটাতো কেউই করতে চায় না। তদন্ত কমিটি যেটা করলাম, করে শেষ করিনি ইমেইলে বলছে এ দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। কাকে দিলে চলবে কাকে দিলে চলবে না আমাকে খুঁজতে হয়। এ করতে করতে মাথার চুল আর থাকে না।’

ছাত্ররা যে সাত দফা দাবি জানিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম দাবি বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে যারা হত্যা করেছে বলে অভিযুক্ত তাদেরকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে। ফৌজদারি বিচারের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনও নিয়ন্ত্রন নেই, কোর্টের মাধ্যমে বিচার হবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিযুক্ত ছাত্র বহিষ্কার করার যে বিষয়টা সেটা তো আপনার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য হিসেবে আপনি কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন জানতে চাইলে ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যে কোনও জিনিসের প্রসিডিওর আছে। আমাদের নিয়ম তদন্ত কমিটি । সেদিন সাথে সাথেই তদন্ত কমিটি হয়েছে। এবং অবশ্যই এদের বের করে দেওয়া হবে। অপরাধীকে কিভাবে রাখবো? লিগ্যাল প্রসিডিওর ফলো করতে হয়। সেটি যদি আমরা না করি, এর আগেও কিন্তু কোর্টে গিয়ে আমাদের হাঁটতে হয়েছে।

এই তদন্ত কমিটি কয়দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১০ দিনের মধ্যে। আমাদের একটা স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিওর আছে।’

বেশ কয়েকজন শিক্ষক জানাজায় অংশ নিয়েছেন আপনি তা জানতেন কিনা সম্পূরক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখানে ডেডবডি এসেছে এই খবর আমাকে কেউ বলেনি। এরমধ্যে আমি আবার গিয়েছিলাম মাননীয় মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে। ‘