ইনসাফের অর্ধযুগ অতিক্রম করা ইসলামি ঘরানার মিডিয়ার জন্য একটি বড় অর্জন

মুফতী জহির ইবনে মুসলিম | সভাপতি : জাতীয় লেখক পরিষদ


ইসলামী অনলাইন মিডিয়া জগতে ইনসাফ অর্ধযুগ অতিক্রম করেছে। ইসলামি ঘরানার মিডিয়ায় জন্য এটি অনেক বড় একটি অর্জন। ইনসাফ পরিবার ও সম্পাদক মাহফুজ খন্দকার সাহেবকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

ইনসাফের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য হলো ইনসাফ অনলাইন পত্রিকা হলেও তার মাধ্যমে আমরা এমন কিছু প্রয়োজনীয় সংবাদ পাই,যে সংবাদগুলো অন্যান্য জাতীয় পত্রিকাগুলোও ছাপাতে পারে না কিংবা তারা কৌশলে সংবাদগুলো এড়িয়ে যায়। এসব খবরগুলো ইনসাফ ও এজাতীয় অন্য সংবাদমাধ্যমগুলো যদি প্রচার না করতো তাহলে এ সংবাদগুলো জাতির দৃষ্টি থেকে আড়ালেই থেকে যেতো। এদিক থেকে ইনসাফ আমাদেরকে তাদের কর্মের মাধ্যমে ঋণের জালে আবদ্ধ করে রেখেছে।

ইনসাফ বহু প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও সফলতার সাথে তাদের পথচলা অব্যহত রেখেছে। তাদের চলার পথ মসৃণ ও নির্ঝঞ্ঝাট হোক এই কামনাই করি।

ইনসাফের প্রতিষ্ঠা হয়েছে জাতির ক্রান্তিলগ্নে এক নাযুক সময়ে। হেফাজতে ইসলাম যখন মাঠে নেমেছিলো তখন হেফাজতের কোনো মুখপাত্র ছিলো না। সেসময় ইনসাফ অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে এবং এখনো পালন করে আসছে।

তাছাড়া লেখালেখিতে আগ্রহী ধর্মীয় বিষয়ে চিন্তাশীল ও গুরত্ব অনুধাবনকারী প্রতিভাবানদেরকে তুলে আনার ক্ষেত্রেও ইনসাফের ভূমিকা অনন্য। এসব ক্ষেত্রে ইনসাফ বড়ো এক খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে।

আমি প্রায় সময় বলে থাকি বর্তমান সময়ে যারা ইসলামী মিডিয়ায় সাথে জড়িত আছে, তারা এক ধরনের জিহাদের ময়দানে কাজ করে যাচ্ছে। কারণ যেখানে পুরো পৃথিবীই আমার প্রতিকূল সেখানে আমার আদর্শ ও সংস্কৃতির কথা বলা এবং তার উপর টিকে থাকা এবং সেই জগৎটাকে আকড়ে ধরে রাখা এক বিরাট জিহাদ—এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

তদুপরি এই জিহাদের ময়দানে তারা সফল হচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে তারা উত্তরোত্তর সফল হতে থাকবেন এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।

আমি বলবো এই বিরাট খেদমতের ক্ষেত্রে ইনসাফ এবং এজাতীয় অন্য পত্রিকাগুলোর পাশে যেভাবে দাঁড়ানো উচিৎ ছিলো আমরা সেভাবে দাঁড়াতে পারছি না।

কিন্তু ধর্মপরায়ণ ও বিত্তবান যারা আছেন তাদের প্রতি আমার একান্ত উদাত্ত আহ্বান থাকবে তারা যদি এই পত্রিকাগুলো বিশেষ করে ইনসাফের উপর একটু সদয় দৃষ্টি দেন তাহলে ইনসাফের পথ আরো অনেক সুগম হবে। এবং সম্পাদক মাহফুজ খন্দকার সাহেব যেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সেক্ষেত্রে তাঁর জন্য কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।

কামনা করি জাতীয়, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সর্বক্ষেত্রে ইনসাফের দৃঢ় ও বলিষ্ঠ ভূমিকা ছড়িয়ে পড়ুক।

(শ্রুতিলিখন)

Previous post মিডিয়ার দাওয়াতি কার্যক্রমকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছেনা
Next post ইনসাফের সুস্থ ধারার সাংবাদিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়