ইনসাফের সবচেয়ে বড় অবদান একটা নতুন ধারা তৈরি করা

সামীউর রহমান শামীম


‘ইনসাফ’-এ লেখা আর ‘ইনসাফ’ নিয়ে লেখা, দুটি ব্যাপারে পার্থক্য বিস্তর। মাঝেমধ্যে ‘ইনসাফ’-এ লিখি, কিন্তু ‘ইনসাফ’-এর অর্ধযুগের যাত্রা সমাপন করে যুগপূর্তির বাকি অর্ধপথের যাত্রারম্ভ উপলক্ষ্যে কিছু লেখাটা নিতান্তই কঠিন।

‘ইনসাফ’-এর সবচেয়ে বড় অবদান যেটা আমি মনে করি, একটা নতুন ধারা তৈরি করা। ‘ইনসাফ’-এর সমবয়স্ক অনেক অনলাইন পত্রিকা রয়েছে। তবে সবগুলো সমপঙ্-ক্তিভোজ্য নয়। ‘ইনসাফ’ কিছুটা আলাদা। সবাই সমপৃষ্ঠে অবস্থান করলেও ‘ইনসাফ’কে কিছুটা ভিন্নভাবে এগোতে হয়েছে। ইসলামি ঘরানার অনলাইন পত্রিকা হিসেবে ‘ইনসাফ’ যাত্রা শুরু করে। এ যাত্রায় ‘ইনসাফ’ই প্রথম। অন্যান্য অনলাইন পত্রিকাগুলো কেউই নিজেদের জায়গায় প্রথম নয়। ‘ইনসাফ’ সমতল পথে তার ছয়টি বছরের যাত্রা সমাপন করেছে, তা নয়। পথ ছিল বন্ধুর। এবড়োখেবড়ো পথ ধরেই এগোতে হয়েছে অর্ধেক যুগ। সেই জায়গায়ই ‘ইনসাফ’ অন্যদের চেয়ে আলাদা। বেশিই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। অন্যেরা যেখানে নিজেদের প্রচার-প্রসারে ব্যস্ত ছিল, ‘ইনসাফ’-কে সেই বিষয়টি যেমন দেখতে হয়েছে, তেমনি ইসলামি ঘরানার অনলাইন পত্রিকা হিসেবে নিজের অবস্থানকে শক্ত করতে হয়েছে। এ মুলুকে শকুনের পরিমাণ নিতান্ত কম নয় কিনা! সেই শকুনগুলোর চোখের সম্মুখে ‘ইনসাফ’কে নিজের শিকড়কে গভীরে আঁকড়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হয়েছে।

‘ইনসাফ’কে স্বাগত জানাই। সামনে আরও বিচিত্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগোতে হবে। শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও সাধুবাদ পাওয়ার সবচেয়ে বেশি দাবিদার ‘ইনসাফ’-এর সম্পাদক শ্রদ্ধেয় সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকারের। ‘ইনসাফ’কে একটি অনলাইন পত্রিকা থেকে প্রতিষ্ঠানে এবং প্রতিষ্ঠানকে একটি পরিবারের মতো করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সবচেয়ে প্রশংসা পাওয়ার বিষয়টি হলো, তিনি ‘ইনসাফ’কে এগিয়ে নিচ্ছেন বড়দের পরামর্শের ওপর ভিত্তি করে। ‘ইনসাফ’-এর সঙ্গে রয়েছে বড়দের দুআ ও পরামর্শ। তা-ই পথ চলার পাথেয় বলে আমি মনে করি। এটি ধরে রাখা সবচেয়ে জরুরি।

‘ইনসাফ’-এর কাছে আমার কিছু চাওয়ার রয়েছে। একজন পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আমি চাইবো, ‘ইনসাফ’ যেমন করে একটু নতুন ধারা আনতে শুরু করেছে, তেমনি বাংলা ভাষায়ও একটি নতুন ধারা চাইলেই আনতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। ‘ইনসাফ’-এর একটি সাহিত্য পাতা বা বিভাগ থাকা জরুরি। যেখানে যেকেউ তার লেখা পাঠাতে পারবে। সম্পাদনা পরিষদের নিকট গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচ্য হলে তা প্রকাশিত হবে। গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, শিশুসাহিত্যসহ অনেক কিছুই স্থান পেতে পারে সাহিত্য বিভাগে। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের মাঝে ‘ইনসাফ’ জায়গা করে নিচ্ছে। ‘ইনসাফ’-এর সঙ্গে জড়িত সকলের উচিত হবে তাদের আপন করে নেওয়া। তাদের মাধ্যমে পুরো সমাজে ‘ইনসাফ’কে ছড়িয়ে দেওয়া। আরেকটি বিষয়, আমার মনে হয়, ‘ইনসাফ’-এর ইংরেজি সংস্করণ বের করার সময় হয়েছে। এতে একটি অন্যমাত্রা যোগ হবে বলে আমি মনে করি। ইংরেজি ভাষার প্রতি আলাদা কোনো গুরুত্ব দিয়ে নয়, বহুভাষিকতার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেই ব্যাপারটি বলছি। ধীরে ধীরে ইংরেজি ছাড়াও অন্যান্য ভাষায় যদি ‘ইনসাফ’ প্রকাশিত হয়, তাহলে বাংলাদেশের বুকে একটি ইতিহাস গড়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস।

‘ইনসাফ’-এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বা এ পরিবারের প্রতিটি সদস্যের প্রতি আমার সালাম ও ভালোবাসা রইল। সবার প্রতি একটি যুগের অর্ধের পেরিয়ে আসায় শুভেচ্ছা এবং সম্মুখের যাত্রায় অনেক শুভকামনা। আল্লাহ তাআলা কবুল করে নিন। আমীন।