ইনসাফ ইসলামী মিডিয়ার পথনির্দেশকের ভূমিকা পালন করছে

মে ১৪, ২০১৮

মুনির আহমদ | সম্পাদক : উম্মাহ্‌ টোয়েন্টিফোর ডটকম


বাংলাদেশ শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের রাষ্ট্র ক্ষমতার শীর্ষে ও সরকারে যারা আছেন, তারা ইসলাম ও মুসলিম স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহানভূতিশীল তো ননই, বরং বৈরি আচরণই দেখা যায় বেশি। সরকারী শিক্ষা, সংস্কৃতির পাশাপাশি আমাদের মূল ধারার মিডিয়া জগতেও এই ধারা প্রবলভাবে বিদ্যমান। অথচ বিশ্বের কোন দেশেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের নীতি-দর্শন ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে এমন অবহেলা ও বৈরিতার নজির নেই।

এমন শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশের আলেম সমাজ সাধারণ মুসলমানদের সহযোগিতা নিয়ে স্ব উদ্যোগেই একমাত্র আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল (সা.)এর সন্তুষ্টির মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে ইসলাম ধর্মীয় প্রচার-প্রচারণা এবং মুসলিম স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। কিন্তু মূল ধারার মিডিয়ার বৈরি মনোভাবের কারণে আলেমদের ভূমিকা, অবদান, কার্যক্রম ও নানান প্রশংসনীয় ভূমিকা সম্পর্কে জাতীয় পর্যায়ে সর্বসাধারণের জানার কোনই সুযোগ ছিল না। শত শত পত্রিকা, টিভি মিডিয়া থাকা সত্ত্বেও এসব গণমাধ্যম অঘোষিতভাবে আলেম-উলামা ও তৌহিদী মুসলমানদের জন্য অনেকটাই নিষিদ্ধের মতো।

বাম সেক্যুলারকুলের জনা বিশেক লোকের সমাগম হাস্যকরভাবে জাতীয় পত্রিকায় বড় হেডিং এ অহরহ প্রচারিত হতে দেখা গেলেও লক্ষাধিক লোকের বিশাল জমাতের তাফসীর মাহফিল, ইসলাম সম্মেলন অথবা তৌহিদী জনতা ও আলেমদের সমাবেশের নিউজ পত্রপত্রিকা ও টিভিতে স্থান পেতো না। কাদাচিৎ ছাপানো হলেও সেটা থাকতো ভেতরের ৭ বা ৮ নং পাতার এক কোণায় সিঙ্গেল কলামে। যে কারণে বড় বড় প্রোগ্রাম করেও কাঙ্খিত জনমত তৈরি করা ছিল বড়ই কঠিন কাজ।

আলহামদুলিল্লাহ ২০১৪ সালে অনলাইন জগতে ‘ইনসাফ’ পত্রিকা পদার্পণ করেছে। আলহামদুলিল্লাহ, এরপর থেকে আস্তে আস্তে মিডিয়া জগতে আমাদের এই বিশাল ঘাটতি পুরণ হতে শুরু করল। ইনসাফের সেই উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে আমিও ছিলাম। ইনসাফ নিয়ে শীর্ষ উলামায়ে কেরাম সেদিন যে বিশাল আকাশ ছোঁয়া আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, পরম করুণাময় আল্লাহর অশেষ শোকরিয়ায় ইনসাফ সেই প্রত্যাশা পুরণের দিকেই সুস্থির কদমে এগিয়ে চলেছে। এখন ইসলাম ও মুসলিম স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে শুধু নিউজই প্রচার হয় না। দেখা যায় গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামগুলোর লাইভ প্রচারণাও সম্ভব হচ্ছে। বিরূপ মনোভাব রাখা টিভি মিডিয়া আলেমদের না ডাকলেও জাতীয় ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ইনসাফ লাইভ ভিডিও বক্তব্য, আলোচনা ও টকশো প্রচারের উদ্যোগ নিয়ে এই ঘাটতিটাও সুন্দরভাবে পুরণের উদ্যোগ নিয়েছে।

হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজ ‘ইনসাফ’-এর বয়স চার বছর হয়ে গেছে। আলহামদুলিল্লাহ, এই চার বছরে ইনসাফের অর্জন অনেক কিছু, ইনসাফের সফলতা আশাব্যাঞ্জক। আমরা এখন জোর দিয়ে বলতে পারি, উলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতার যে কোন প্রোগ্রাম, যে কোন আয়োজন ও সংবাদ অনায়াসেই জাতির কাছে পৌঁছানো পথ তৈরি করে দিয়েছে ইনসাফ। এই ইনসাফ পত্রিকা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনলাইন জগতে আরো কয়েকটি নিউজ সাইট চালু হয়েছে। এমনকি, আমি নিজেই ‘উম্মাহ’ নামে যে অনলাইন পোর্টাল চালু করেছি, আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, সেটাও ইনসাফ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েই করেছি। আমি মনে করি, এটা ইনসাফের সফলতা, ইনসাফের অবদান।

বাংলাদেশে ইসলামী ধারার সাংবাদিকতা ও সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্র তৈরিতে ‘ইনসাফ’-এর অবদান ও ভূমিকা পথনির্দেশক। ইনসাফের জন্য এটা অনেক গৌরবের। ইনসাফ সম্পাদক মাহফুজ খন্দকার ভাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ধন্যবাদ জানাচ্ছি পেছন থেকে, আড়ালে থেকে যেসব গুণীজন ইনসাফকে এগিয়ে নিতে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সকলকে।

আর একটা বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, ইনসাফ গতানুগতিক ধারার কোন পত্রিকা নয়। তারা অন্ততঃ যে কোন সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা ও প্রচার উপযোগিতার মান নির্ণয়ের দায়বদ্ধতা গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করে।

ইনসাফের উত্তরোত্তর সফলতা ও ব্যাপক প্রচার-প্রসার কামনা করি। আমি জোর আশাবাদি, ইনসাফ শুধু অনলাইন পোর্টালেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একটা সময় আমরা দেখতে পাব, প্রিন্ট সংস্করণেও ‘দৈনিক ইনসাফ’ পত্রিকা দেশব্যাপী নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। নিয়মিত ইলেক্ট্রনিক প্রচারেও তারা আসবে। ইনসাফ টিভি চালু হবে। ইনসাফের পথধরে বাংলাদেশে ইসলামী মিডিয়ার ব্যাপক প্রসার এবং জোয়ার বইতে শুরু করবে।