মুসলিম গণহত্যার খলনায়ক আসাদের হামলায় বিপর্যস্ত ইদলিবে নতুন আতঙ্ক করোনা ভাইরাস

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার ইদলিব ধ্বংসস্তুপের নগরী৷ কোথাও সাবান নেই, অনেক কষ্টে মেলে সামান্য পানি৷ সুন্নি মুসলমান গণহত্যার খলনায়ক বাশার আল আসাদ সরকার ও তার মিত্র ইরান- রুশ বাহিনীর গোলার আঘাতে গুঁড়িয়ে যাওয়া নগরীতে কোয়ারান্টিনের জায়গাও নেই৷

এ অবস্থ‍ায় করোনা ভাইরাস সেখানে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ যার বিরুদ্ধে লড়াই করতে এক নারী স্থানীয়দের শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন৷

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস আনুষ্ঠানিক হিসাব মতে এখনো সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে পৌঁছায়নি। যদিও ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।

ইদলিবে যুদ্ধবিরতি চলছে৷ গত কয়েক সপ্তাহে সেখানকার মানুষ বাশার আল-আসাদ বাহিনী বা তাদের মিত্র রুশ বাহিনীর বোমা হামলার আতঙ্কে নয় বরং করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন৷ সেখানে তাদের জন্য নেই চিকিৎসা কেন্দ্র।

গতবছর ডিসেম্বরে আসাদ বাহিনীর আক্রমণে নগরীর ১০ লাখের বেশি সুন্নি মুসলমান গৃহহীন হয়ে পড়ে। যারা এখন নানা অস্থায়ী ক্যাম্পে বসবাস করছেন। কেউবা ক্যাম্পে স্থান না পেয়ে ছোট শিশুদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ক্যাম্পগুলোতে হাজার হাজার মানুষ গাদাগাদি করে থাকেন৷ সেখানে বারবার হাত ধোয়া বা দূরত্ব বজায় রাখা অসম্ভব৷ কোয়ারান্টিনের তো প্রশ্নই আসে না৷

ইদলিবে নারীদের সহযোগিতা ও কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করছেন হুদা খাইতি৷ তিনি কোভিড-১৯ রোগের বিষয়ে সচেতনতা কমিটিরও প্রধান৷

তিনি বলেন, ‘‘আমি কিভাবে এদের বলি আপনারা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন৷ তারা ভাগ্য ভালো থাকতে পরিষ্কার পানি পায়৷ না হয় তাও মেলে না। হাজারো মানুষের জন্য মাত্র কয়েকটি টয়লেট৷ ‍মাস্ক, গ্লাভস কিচ্ছু নেই৷’’

বছরের পর বছর ধরে আসাদ ও তার মিত্র বাহিনীর বোমা হামলার কারণে ইদলিবের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে৷ শুধু ২০১৯ সালেই সেখানে ৮৫টি হাসপাতাল গু‍ড়িয়ে দেওয়া হয়৷ মেডিকো ইন্টারন্যাশনালের সিরিয়া বিষয়ে সমন্বয়ক তিল কুস্তা বলেন, সেখানে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের জন্য এখন মাত্র তিনটি হাসপাতাল আছে৷ তার মধ্যে একটি পুরোপুরি চালু৷ সেখানে নিবীড় পর্যবেক্ষণ ইউনিটে ১৫০ শয্যা এবং একই সংখ্যায় ভেন্টিলেটর আছে বলে জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা৷

সূত্র: ডয়চে ভেলে