করোনা নিয়ে সচেতন করায় আ.লীগ নেতার হাতে সাংবাদিক লাঞ্ছিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সচেতনতামূলক পোস্ট করায় নবীনগরের সলিমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতার হাতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনে স্থানীয় এক সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উওেজনা বিরাজ করছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে সলিমগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তরমুজের বাজার বসলে সেখানে লোকে লোকারন্য হয়ে যায়। এ নিয়ে ফেইসবুকে লাইভে আসেন দেশ সংবাদ অনলাইন পোর্টাল ও পল্লী টিভির (আইপি টিভি) স্থানীয় সাংবাদিক মুহাম্মাদ আক্তারুজ্জামান।

লাইভে এসে তিনি বলেন, সারাদেশ যখন করোনা আতঙ্ক নিয়ে প্রতিটি দিন পার করছে। সরকার নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে। অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে সলিমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তরমুজের জমজমাট বাজার বসেছে। অতিরিক্ত জনসমাগম ঘটিয়ে তারা সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে ব্যবসা বানিজ্য করছেন। এই দৃশ্য কি চেয়ারম্যান সাহেবের নজরে আসে না? তিনি করোনা সচেতনতায় কি দায়িত্ব পালন করছেন? এই লাইভ দেখে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন সলিমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা খোরশেদ আলম।

নির্যাতিত সাংবাদিক আক্তারুজ্জামান বলেন, দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হাসান ও নবীনগর থানার ওসি (তদন্ত) রুহুল আমিন সলিমগঞ্জ বাজারে আসেন। এই সংবাদ পেয়ে নিউজ সংগ্রহ করতে গেলে একই স্থানে উপস্থিত হন চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম। সেখানে চেয়ারম্যান আমাকে দেখতে পেয়েই গালমন্দ ও কিল ঘুষি মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

ওসি রুহুল আমিন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আপনি এই রকম একটি কাজ করতে পারেন না। আমাদের সামনে আপনি একজন সাংবাদিকের গায়ে হাত দিতে পারেন না। সে অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন।

এ বিষয়ে ওসি রুহুল আমিন বলেন, ঘটনার সময় আমরা দোকানের ভিতর ছিলাম, পরে বিষয়টি জানতে পেরে চেয়ারম্যানকে কঠিন ভাষায় জবাব দিয়েছি।