রোহিঙ্গা ইস্যু জাতিসংঘে তুলবে তুরস্ক, কক্সবাজারে লোকবল বাড়াতে চায় জাতিসংঘসহ কয়েকটি সংস্থা; সন্দেহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আগামী জাতিসংঘ অধিবেশনে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তুরস্ক ইস্যুটি উত্থাপন করবে বলে বাংলাদেশকে জানিয়েছে।

শনিবার (০৯ মে) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আবদুল মোমেনের সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভুদ কেভেসলের ফোনালাপের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ খবর জানিয়েছে।

কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এখনো করোনাভাইরাস সংক্রমন ধরা না পড়লেও পরিস্থিতি আগাম মোকাবিলায় জাতিসংঘসহ কয়েকটি সংস্থা নিজেদের লোকবল বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকার এর উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬৩ জনের একটি তালিকা পাঠিয়েছে। তবে চিকিৎসা সেবার সঙ্গে জড়িত এমন ১৯ জনকে আনার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে তালিকার সবাইকে আসতে দেবার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে নানা ধরনের চাপে রেখেছে জাতিসংঘ।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, একজন রোহিঙ্গাও আক্রান্ত না হওয়া সত্ত্বেও করোনা মোকাবিলায় এতো লোকবল আনতে চাওয়ার উদ্দেশ্য কী?

তিনি বলেন, সেখানে কোনো রকম মহামারি হয়নি। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সেখানে অধিকতর লোক পাঠাচ্ছে। জাতিসংঘ আমাদেরকে ৬৩ জন লোকের তালিকা দিয়েছে, যাদের তারা চায়। করোনায় আক্রান্ত হলে রোহিঙ্গাদের মুক্তির জন্য এই লোকগুলোকে এখনই বিদেশ থেকে আনবে।

ড. মোমেন বলেন, আমরা ১৯ জনকে আনতে রাজি হয়েছি। তার জন্যে তারা (জাতিসংঘ) খুব পীড়াপীড়ি করছে। অনেক শর্ত দিয়েছে তারা। যাদের মেডিকেল অভিজ্ঞতা নেই, তাদের আনতে আমরা রাজি হয়নি। এটা নিয়ে তারা (জাতিসংঘ) আমাদের একটা চাপের মধ্যে রেখেছে।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নিজেদের লোক আনতে জাতিসংঘ এতটাই মরিয়া যে করোনা মহামারির কারণে সব ফ্লাইট বর্তমানে স্থগিত থাকলেও, ফ্লাইট চার্টার করে তাদের নিয়ে আসতে চায়।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, এই ৬৩ জনকে আনার উদ্দেশ্য করোনা মোকাবিলার কথা বলা হলেও, চিকিৎসা সেবায় কোনো অভিজ্ঞতা নেই এমন লোক আনার যুক্তি আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের (জেআরপি) টাকা ঠিকমতো জোগাড় করা যায়নি। এদিকে আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে প্রস্তুতিও এখনো ঠিকমতো সম্পন্ন করা যায়নি। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ফান্ড সংকটও রয়েছে। সেখানে ফ্লাইট চার্টার করে জনবল নিয়ে আসা নিতান্তই বিলাসিতা মনে করে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতিসংঘ নিজেদের লোকজনের পেছনে কত এবং রোহিঙ্গাদের পিছে কতটুকু খরচ করছে, তার হিসাব প্রকাশ করা উচিত। পুরো প্রক্রিয়াটিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সেখানকার স্থানীয় জনগণ। জাতিসংঘ প্রায়ই বলে থাকে, স্থানীয়দের সহায়তা করে যাচ্ছে তারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের পিছনে জনপ্রতি কত টাকা খরচ করা হয়েছে, তার কোনো হিসাব বাংলাদেশকে দেয়া হয়নি। অথচ অতিরিক্ত জনবলে মনোযোগ দিয়ে যাচ্ছে তারা।

এদিকে জাতিসংঘ বলছে, বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে বসবাস করায় এবং অপ্রতুল স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এ ভাইরাসটিতে দ্রুত সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে, রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) মাধ্যমে পরীক্ষা চালিয়ে এখন পর্যন্ত একজনেরও করোনা আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।