ক্যাসিনো ও অর্থপাচারে জড়িতদের তথ্য চেয়ে সিঙ্গাপুরে চিঠি দিয়েছে দুদক

নভেম্বর ১, ২০১৯ নিজস্ব প্রতিনিধি

গত ৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে  যেসব অর্থ পাচার করে সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো ব্যবসায় লগ্নি ও জুয়া খেলেছেন তাদের শনাক্তে নেমেছে দুদক। এদের সম্পর্কে তথ্য চেয়ে সিঙ্গাপুর সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুদকের মহাপরিচালক (মানি লন্ডারিং) এএনএম আল ফিরোজ এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন। সিঙ্গাপুরের দুর্নীতি দমন ব্যুরো (সিপিআইবি) প্রধান উয়ং হং কুনের মাধ্যমে সরকারের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়।

অনুসন্ধান ও তদন্তের প্রয়োজন হলে একটি বিশেষ টিম শিগগির সিঙ্গাপুর যেতে পারে বলে জানা গেছে। খবর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রের।

এ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, যারা অবৈধ পন্থায় অর্থ বানিয়ে দেশে সম্পদ গড়েছেন বা দেশের বাইরে পাচার করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আমাদের দল কাজ করছে। কারও মুখ দেখে দুদক তদন্ত পরিচালনা করছে না।

অবৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জনকারীদের মধ্যে অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, সিঙ্গাপুরে হুন্ডিসহ অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনোয় লগ্নিসহ জুয়া খেলায় এসব অর্থ তারা ব্যবহার করেছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, দুদকের সঠিক অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থে সিঙ্গাপুরের ‘মেরিনা-বে’ এবং সে দেশের অন্যান্য স্থানের ক্যাসিনোগুলোয় যারা জুয়া খেলেছে পাসপোর্ট নম্বরসহ তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা খুবই প্রয়োজন।

সিঙ্গাপুরের ক্যাসিনোগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে যারা জুয়া খেলেন, তাদের পাসপোর্ট অবশ্যই জমা দিতে হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশের কতজন নাগরিক তাদের পাসপোর্ট জমা দিয়ে গত ৫ বছরে ক্যাসিনো-জুয়া খেলায় অংশ নিয়েছেন তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দুদককে সরবরাহ করতে চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের ৪৮ ধারার বিধান অনুযায়ী দুদক সিঙ্গাপুর থেকে এ তথ্য পেতে কোনো বাধা নেই। দুই দেশের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা (বাংলাদেশের দুদক ও সিঙ্গাপুর দুর্নীতি দমন ব্যুরো) একই লক্ষ্যে কাজ করছে।

সরকার ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্য দিয়ে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এতে অনেকের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সম্রাট, খালেদ, জি কে শামীমসহ ২২৪ জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদের অধিকাংশই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি, ক্যাসিনো পরিচালনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িত। দুর্নীতি করে অনেকে শত শত কোটি টাকা কামিয়ে দেশের বাইরে পাচার করেছেন।

দেশে তাদের কি পরিমাণ সম্পদ আছে তা প্রথম দফায় খুঁজে বের করার কার্যক্রম চলছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতেও নানাভাবে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

এদিকে অর্থ পাচার ঠেকাতে দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন), পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ), উপ-পরিচালক (অনিষ্পন্ন সেল) এবং সহকারী পরিচালক (মানবসম্পদ) সমন্বয়ে ৪ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।