নাটোরে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

নভেম্বর ২, ২০১৯ নিজস্ব প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল কাশেম ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

শনিবার (০২ নভেম্বর) দুপুরে মামলাটি করা হয়। সকালে উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের জোয়াড়ী গ্রাম থেকে তসলিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মনিরুল (২৬) উপজেলার বাটরা গোপালপুর গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে এবং নিহত তাসলিমা খাতুন (২০) জোয়াড়ি গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে। মনিরুল বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইনে কর্মরত আছেন।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, এক বছর দুই মাস আগে মনিরুলের সঙ্গে তাসলিমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাসলিমা স্বামীর সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভাড়া বাসায় থাকত। তখন থেকে মনিরুল তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে। কিন্তু তাসলিমা তাতে রাজী হয়নি।

নিহতের বড় ভাই রবিউল ইসলাম জানান, গত ২৪ আগস্ট মনিরুল যৌতুকের জন্য তাসলিমাকে বাবার বাড়িতে রেখে যায়। এর দুদিন আগে কৌশলে সে তার গর্ভবতী স্ত্রীর গর্ভপাত ঘটায়। গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে মনিরুল পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে এসে তাসলিমাকে টাকার জন্য চাপ দেয়। এ সময় বাড়ির সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে বাক-বিতণ্ডার একপর্যায়ে তাসলিমাকে পিটিয়ে গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায় সে।

পরে তাসলিমা মারা গেছে ভেবে মনিরুল গ্রিলবিহীন জানালার কপাট খুলে পালিয়ে যায়। পরে স্বজনেরা বাড়ি এসে তাসলিমাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে এবং পরে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে ৫২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার ভোরে তাসলিমা মারা যায়।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ কুমার দাস জানান, এ ঘটনায় তসলিমা খাতুনের বাবা আবুল কাশেম বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।