করোনায় আক্রান্ত ১৩শ’ পুলিশ সদস্য, চিকিৎসার জন্য আলাদা হাসপাতাল

পুলিশের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বেসরকারি একটি হাসপাতাল নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

শনিবার (০৯ মে) থেকে তেজগাঁও এলাকার ইমপালস হাসপাতালে পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক ডিআইজি হাসানুল হায়দার।

করোনাভাইরাসে ইতোমধ্যে ১৩শ পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ডিআইজি হাসানুল হায়দার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ইমপালস হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা শুরু হলে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চাপ কমবে।

দেশে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে; এর ১০ শতাংশের বেশিই পুলিশ সদস্য।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে মানুষকে ঘরে রাখা থেকে শুরু করে রোগী ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক কাজটুকুও পুলিশকে করতে হচ্ছে।

ফলে রোগীর সংস্পর্শে আসার সুযোগ বেশি ঘটায় পুলিশ সদস্যও বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করেন।

তারা জানান, বৃহস্পতিবার নাগাদ ১৩শ’ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতেই ৬৬৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৯৩ জন, মারা গেছেন ছয়জন।

ঢাকার রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের বাইরে রাজশাহীর বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালেও আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা চলছিল।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ সদস্যদের আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ২৫০ শয্যার কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া জটিল হয়ে পড়ছিল। এ অবস্থায় হাসপাতালে জায়গা না হওয়ায় হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যদের কোয়ারেন্টিনে রাখতে হচ্ছে।

“কোনো হাসপাতালে নির্দিষ্টভাবে পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় ওই বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করতে হয়েছে।”

ইমপালস হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক খাদিজা আখতার ঝুমা গণমাধ্যমকে বলেন, তারা দুই মাসের জন্য পুলিশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

১৬ তলা এই ভবনের ২৫০ শয্যা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডাক্তার, নার্স ইমপালস হাসপাতালের। পুলিশের পক্ষ পিপিইসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা থাকছে।

ইমপালস হাসপাতালের নিয়মিত রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তর করে শুধু কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক খাদিজা।

ডিআইজি হাসানুল হায়দার বলেন, কেন্দ্রীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেকেই সুস্থ হয়ে ফিরছেন। ৭৩ জনের পজেটিভ থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) ফলাফলে নেগেটিভ পাওয়া গেছে। আরও একবার পরীক্ষা করা হবে। নেগেটিভ এলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে যাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করে ২০ শতাংশের ‘পজিটিভ’ পাওয়া যাচ্ছে।

Previous post করোনার প্রাদুর্ভাবে বন্ধ থাকা ইস্তাম্বুলের মসজিদে আদুরে বিড়ালছানার জন্ম
Next post যবিপ্রবির ল্যাবে নতুন ১৪ জনের করোনা শনাক্ত