মুনির আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক মাসিক মুঈনুল ইসলাম,
দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।


ইসলাম যেমন পরধর্ম সহিষ্ণুতার কথা বলে, তেমনি পরধর্মের সঙ্গে আপোষ করতে নিষেধ করে।
এটা স্বাভাবিক, যারা স্বধর্মের প্রতি নিষ্ঠাবান, তারা পরধর্মের প্রতি কোনোরূপ অনুরাগ দেখাতে পারে না। হিন্দু ধর্মের ধর্মগ্রন্থ গীতায় বলা হয়েছে-
‘স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্ম ভয়াবহ’।
ধর্মপ্রাণ মানুষের স্ব-ধর্মের প্রতি অনুরাগী থাকাই বিধেয়। ইসলামের আসমানী কিতাব পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, “আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, শক্ত করে ধর এবং তাতে যা আছে তা মনে রাখ, তাহলে তোমরা রক্ষা পাবে”। (সূরা বাকারাহ- ৬৩)। এখানে পবিত্র কুরআনের কথা বলা হয়েছে। নির্দেশনা এসেছে তার বিধি-বিধান মেনে চলার।

কাফিররা একবার মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেকে বলেছিল, “তুমি আমাদের ধর্মও মেনে নাও, আমরাও তোমার ধর্ম মেনে নেবো”। অর্থাৎ- কাফিরদের সঙ্গে মিলে-মিশে ধর্মানুষ্ঠান। এ প্রস্তাবের উত্তর হিসেবে আল্লাহর তরফ থেকে ওহী নাযিল হয়। সেই ওহী ‘সূরা কাফিরূন’এ সুস্পষ্ট জানা যায় যে, যাদের উপাস্য ভিন্ন তাদের সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়ে ঐক্যমতে আসার সুযোগ ইসলামে নেই। সুতরাং বক্তব্য একটাই, তা হলো, ‘লাকুম দ্বীনুকুম আলিইয়াদ্বীন’।

ইসলাম ধর্ম অন্যান্য ধর্মের থেকে সুম্পূর্ণ বিপরীত। অন্যান্য ধর্মে মূর্তি এবং গান-বাদ্য-নাচ উপাসনার অঙ্গ, আচার। কিন্তু ইসলামে অইগুলি হারাম, অনাচার। ইসলাম ধর্মের কোনো আচার-আচরণ বিধর্মীদের সঙ্গে মিলেমিশে কিংবা তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করার সুযোগ মুসলমানদের নেই।

ইসলামে উদারতা এ পর্যন্তই, ‘অন্য ধর্মের লোকদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ না করা এবং তাদের সাথে সামাজিক কাজকারবারে সহিষ্ণু ও ইনসাফপূর্ণ আচরণ করা’। কিন্তু এমন সুযোগ রাখা হয়নি, মুসলমানের ভিন্ন ধর্মীয়দের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার।
ধর্মের ভিন্নতার কারণে সম্প্রদায় থাকবে, কিন্তু কোনো ধর্মানুসারীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা যাবে না, হিংসা করা যাবে না। এমন মতই হলো ইসলামের। আর, এমন হলেই একই দেশে সকল ধর্মের লোকেরা শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থানে বাস করা সম্ভব।


ফেসবুক থেকে