ইসলাম নিয়ে নারী বাউল শিল্পীর কটূক্তি; ১ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২০ । নিজস্ব প্রতিনিধি

পালা গানে ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করায় রিতা দেওয়ান নামের এক বাউল শিল্পীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানাকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ আমলি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম কুমার বিশ্বাস ঘটনা তদন্তের জন্য কালীগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার ঝিনাইদহে বিজ্ঞ আমলি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন শিক্ষানবিশ আইনজীবী ও মাইটিভির জেলা প্রতিনিধি মিঠু মালিথা। এ মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে আজ শুনানির দিন ধার্য করেন।

মামলার শুনানি পরিচালনা করেন ঝিনাইদহ আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ মিন্টু।

এ সময় মামলাটির পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মিলন, অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামসহ প্রায় ২০ আইনজীবী।

মামলার বাদী মিঠু মালিথা জানান, আল্লাহ ও পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনকে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করে অকথ্য ভাষায় অশালীন মন্তব্য করায় বাউল গানের শিল্পী রিতা দেওয়ান ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। যে কারণে ইমানি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমি মামলাটি করেছি।

তিনি আশা করেন, ওই নারী বাউলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবেন আদালত।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮ (১) ধারায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি পালা গানের আসরে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে রিতা দেওয়ান মহান আল্লাহকে নিয়ে চরম ধৃষ্টতা, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮(১) ধারায় বলা হয়েছে- ‘যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করিবার বা উস্কানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করান, যা ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আঘাত করে, তাহলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ। যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন’।