ইহুদিবাদী ইসরাইলের মাধ্যমে পাঠানো আমিরাতের চিকিৎসা সহায়তা প্রত্যাখ্যান করলো ফিলিস্তিন

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নাহিয়ান হাসান


ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের তথ্যানুসারে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃক চিকিৎসা সরঞ্জামাদির চালান প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ(পিএ)।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী ‘মীকাইলা’ বলেছেন, যেহেতু আরব আমিরাত তাদের সাথে সমন্বয় সাধনকে গুরুত্ব দেয় নি তাই তার রাষ্ট্র তাদের চিকিৎসা সরঞ্জামাদি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা একটি সার্বভৌম জাতি। তাদের উচিত ছিল চিকিৎসা সরঞ্জামাদির সহায়তা প্রেরণের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম আমাদের সাথে সমন্বয় করা।

‘মান সংবাদ সংস্থা’ যা ‘পিএর’ খুব আস্থাভাজন একটি সংবাদ সংস্থা, তারা বৃহস্পতিবার একটি সংবাদে উল্লেখ করেছে যে, ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের তেল আবিবের বেন গুইরন বিমানবন্দরে চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

আরব আমিরাত ও ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের কোনো ধরণের সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও এই প্রথম কোনো ফ্লাইট ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। এটাকে অনেকে দু’দেশের মধ্যকার সর্বপ্রথম পাব্লিক ফ্লাইট হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ফিলিস্তিনিদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা স্বরূপ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী একটি আমিরাতী বিমান আবুধাবি থেকে যাত্রা শেষে ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বেন গুইরন বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা ‘ইত্তিহাদ এয়ারওয়েজ’ উক্ত ফ্লাইটটির কথা নিশ্চিত করেছে।

‘দা এসোসিয়েটেড নিউজ এজেন্সিকে’ তারা বলেছিল যে, ১৯ মে মঙ্গলবার ফিলিস্তিনি জনগণকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মানবতায় নিবেদিত ইত্তিহাদ এয়ারওয়েজের একটি কার্গো বিমান আবুধাবি থেকে তেলে আবিবের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাংবাদিক ‘ইতাই ব্লুমেন্টাল’ তার টুইটার একাউন্টে দুটি কার্গো বিমানের ছবি টুইট করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, আবুধাবি থেকে ইসরাইলের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য ভালবাসা!

রাষ্ট্রীয় বার্তায় জানানো হয় যে ফিলিস্তিনে সহায়তা প্রেরণের ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র পক্ষের সাথে কোনো ধরণের সমন্বয় করেনি। আর ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে আরব রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করনের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিন মেলবন্ধনের সেতু হতে চায় না।

এসময় যেকোনো সহায়তা প্রেরণের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম অবশ্যই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় সাধন করার ব্যাপারে তারা জোর দিয়েছিলেন।

তারা উল্লেখ্য করেন, যেকোনো কিছু সরাসরি ইসরাইলে প্রেরণ করা নিভৃতে তাদের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাকে শক্তিশালী করে।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ভাষণে ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইসরাইল এবং মধ্য প্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলির মাঝে এক ধরনের সমন্বয় সাধিত হয়েছে যা ১০ বছর আগে কল্পনাতীত ছিল। তিনি আরো বলেন, ইসরাইল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আমি কমবেশি যতদিনই ছিলাম এধরণের সমন্বয়মূলক সম্পর্ক আমার জীবদ্দশায় আমি এর আগে কখনো দেখিনি। সুতরাং এটি একটি অসাধারণ বিষয়।

এর দু’মাস পর মার্চ মাসে ৭০ বছরের নিষেধাজ্ঞা ভেঙ্গে সৌদি আরব ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানকে প্রথমবারের মতো তাদের আকাশসীমা পেরিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়।

একই বছর অক্টোবরে নেতানিয়াহু এক আচমকা ও অঘোষিত ভ্রমণে ওমানের সুলতান কাবুসের সাথে মাসকাটে সাক্ষাত করেছিলেন।

Previous post বাংলাদেশে ইসলামি মিডিয়ার অগ্রপথিক ইনসাফ
Next post ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র নিয়ে সচেতন করতে ইনসাফ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে