নির্দ্বিধায় বলতে পারি ইনসাফ ইসলামী মিডিয়া জগতের পথিকৃৎ

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী | মহাসচিব : জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও ঢাকা মহানগর সভাপতি : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ


দেশের প্রথম ইসলামী ঘরানার অনলাইন পত্রিকা ‘ইনসাফ’ -এর ধারাবাহিক প্রকাশনার অর্ধযুগ পূর্তি উপলক্ষে পত্রিকাটির পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভার্থীদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি।

বর্ষপূর্তির এই আনন্দঘন সময়ে বিশেষভাবে মোবারকবাদ জানাচ্ছি ইনসাফের সম্পাদক সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও সংবাদকর্মীকে। তাদের নিরলস পরিশ্রম ও ত্যাগের ফলেই পত্রিকাটি অত্যন্ত সাফল্যের সাথে অর্ধযুগ পূর্ণ করে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্ব ব্যবস্থায় প্রাচীন কাল থেকেই মিডিয়া বা গণমাধ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে এই গুরুত্ব আরো বেড়েছে। মিডিয়ায় যে জাতি-গোষ্ঠী, রাষ্ট্র ও মতবাদের উপস্থিতি যত বেশি হবে, তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারের পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও তত সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি হবে। মিডিয়া না থাকলে যত ইতিবাচক কাজই করা হোক, তার সুফল সেভাবে পাওয়া যায় না। বেশিরভাগ সময় প্রতিপক্ষের অপপ্রচারের কবলে পড়ে অঙ্কুরেই অনেক ভালো উদ্যোগ থেমে পড়ে। অনেক সময় বড় বড় বাঁধা সামনে এসে দাঁড়ায়। গোয়েবলসিয় সূত্রের মতো প্রতিপক্ষের আগ্রাসী মিথ্যাচার ডিঙ্গানো অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়।

বাংলাদেশ বিপুল মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হওয়া সত্ত্বেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে গণমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ইসলামী অঙ্গনের আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছিলাম। একটা সময় ছিল, আমাদের অনেক বড় বড় সভা-সমাবেশ এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ কারো গোচরেই আসতো না। সেক্যুলার মিডিয়াগুলোতে নিজ উদ্যোগে সংবাদ পাঠানো হলেও প্রেসবিজ্ঞপ্তির পাতাসমূহের জায়গা হতো ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটে। অপরদিকে এসব মিডিয়া সমানে আলেম সমাজের সমালোচনা করে যেতো যে, আমাদের সামাজিক ও মানবিক কাজে কোনো উপস্থিতি নেই। শাঁখের করাতের মতো দুই দিক দিয়েই তারা আঘাত হানতো।

আলহামদু লিল্লাহ, ২০১৪ সালে ইনসাফ সম্পাদক সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার যে অসীম উদ্যোগ নিয়ে এই পথে পা বাড়িয়েছেন, তার ফলে আজ মিডিয়ায় আমাদের শক্তিশালী অবস্থান কতটা হয়েছে বা হয়নি সে বিতর্কে না গেলেও এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, মিডিয়ায় আমাদের অসহায়ত্বের দিন শেষ হয়েছে। আলেম-উলামা ও ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে কেউ একতরফা আঘাত দিতে ঢিল ছুঁড়তে থাকবে, সেই সুযোগ আর নেই। ইনসাফ অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের যে পথ রচনা করে মিডিয়ায় আলেমদের জায়গা করে দিয়েছে, তার পথ ধরে ক্রমান্বয়ে আরো অসংখ্য মিডিয়া মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে এবং আরো অনেকে চেষ্টা করছে। ইনসাফকে ইসলামী অঙ্গনের নিউজ মিডিয়ার জগতে নির্দ্বিধায় পথিকৃৎ বলতে পারি।

বর্তমান যুগ যেহেতু ডিজিটালাইজেশনের যুগ, আমাদের যারা এখনো অনলাইন পত্রিকার গুরুত্ব দিতে চান না, তারা হয়তো বুঝতে পারছেন না যে, অল্প দিনের মধ্যেই কাগজে পত্রিকা হারিয়ে যাবে। পশ্চিমা বিশ্বে কাগজে পত্রিকা নেই বললেই চলে। সুতরাং ইনসাফের মতো অনলাইনভিত্তিক মিডিয়াগুলো বলা যায়, আগামী দিনে মিডিয়া জগতে সদর্পে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়ে যাবে, ইন শা আল্লাহ।

এখনো যারা সোশ্যাল মিডিয়া’সহ অনলাইনের ব্যবহারে অভিজ্ঞ, তারা নিশ্চয় সহজেই বুঝতে পারেন যে, মূলধারা অন্যান্য পুরনো প্রতিষ্ঠিত পত্রপত্রিকার তুলনায় অনলাইন জগতে ‘ইনসাফ’র মতো পত্রিকাগুলো ইতিমধ্যেই শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়েছে।

শেষ কথা, আমরা সব সময় মিডিয়ার গুরুত্বের কথা এক কথায় স্বীকার করি এবং এই অঙ্গনে আমাদের শক্তিশালী অবস্থান থাকার প্রয়োজনীয়তার উল্লেখও করি। কিন্তু আমরা এটা কখনো ভেবে দেখি না যে, একটা পত্রিকা নিয়মিত করার জন্য এবং অগ্রসরমান রাখার জন্য বড় অংকের খরচের বিষয় আছে। অফিস খরচ, নিয়মিত ও অনিয়মিত সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা, সাইট ব্যবস্থাপনা, টেলিফোন, যাতায়াত, ব্যান্ডউইথ, ট্রান্সপোর্ট, কভারেজ, এক কথায় বহুমুখি বিশাল খরচের বিষয় জড়িত। অথচ এই দিকটা নিয়ে ইসলামী অঙ্গনের রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও অন্যান্য উদ্যোক্তাদের সহযোগী মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসা খুবই জরুরী।

অনলাইন পত্রিকাসমূহের আয়ের একমাত্র উৎস বিজ্ঞাপন। অথচ, ইসলামী ভাবাপন্ন পত্রিকা হওয়ার কারণে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও তাদেরকে নানা বাধাবিপত্তির মুখে পড়তে হয়। একদিকে বাছবিচার ছাড়া যেমন যেই সেই বিজ্ঞাপন তারা প্রকাশ করতে পারে না, তেমনি গায়ের সাথে ‘ইসলামী ভাবাপন্ন’ রং থাকার কারণে সেক্যুলার মানসিকতার কর্পোরেট হাউজগুলো তাদেরকে কোন বিজ্ঞাপন দিতে রাজি না। সুতরাং এই পত্রিকাগুলোকে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে আমাদেরকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও মানবিক সংগঠন এবং যে সকল সমর্থবান সংস্থা, সমিতি ও ব্যক্তি সংবাদ, প্রতিবেদন প্রকাশ’সহ মিডিয়া সাপোর্ট পেয়ে থাকেন, অন্তত: পক্ষে তাদেরকে গুরুত্বের সাথে এসব পত্রিকায় নিয়মিত সহযোগিতা করা জরুরী মনে করি। সমমানসিকতার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ বিজ্ঞাপন দিয়েও সহযোগিতা করতে পারে। ইসলামের পক্ষের একটা মিডিয়ার শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার সৎ নিয়ত নিয়ে সহযোগিতায় এগিয়ে আসলে অবশ্যই এটা অনেক বড় সাওয়াবের কাজ হবে, ইন শা আল্লাহ। আসা করি, বিষয়টা সংশ্লিষ্ট সকলে বিশেষভাবে খেয়াল করবেন যে, শুধু ইসলামী মিডিয়ার জরুরতের কথা বলে যাওয়াতেই দায়িত্ব শেষ হয় না, যারা সাহস করে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে বিশাল ব্যয় নির্ভর এই খাতে এসেছে, তাদেরকে সহযোগিতা করা ও খোঁজ খবর নেওয়াটাই বড় প্রয়োজন।

সবশেষে ইনসাফ পরিবারকে এবং পত্রিকাটির পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। ইনসাফ পত্রিকা আগামীতে আরো সুদৃঢ় হোক, জাতি ও দেশ গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখুক এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় নজির স্থাপন করুক, -এই কামনা ও দুআ করি। আল্লাহ হাফিজ।

Previous post ৫০ লাখ মানুষকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে ‘বাটপারি’ চলছে: রিজভী
Next post দেশে করোনায় আক্রান্ত গণমাধ্যমকর্মী ১৩৯ জন