এবারের বাজেটে মানুষকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

এবারের বাজেটকে ‘মানবিক বাজেট’ আখ্যায়িত করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, এবারের বাজেটে মানুষকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মানুষ না থাকলে বাজেট কার জন্য? বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে দেশের মানুষকে আমাদের বাঁচাতে হবে।’ অর্থমন্ত্রী করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাজেট বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী ছাড়াও সম্পূরক বাজেট নিয়ে পাঁচ জন সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। তারা হলেন সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মুহাম্মাদ কাদের, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবুল হাসান মাহমুদ আলী, তাহজীব আলম সিদ্দিকী ও ওয়াসিকা আয়েশা খান এবং বিএনপি’র হারুন-অর-রশিদ। এবার সম্পূরক বাজেট নিয়ে মোট ৭০ মিনিট আলোচনা হয়। সোমবার একদিনই সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা করে এটি পাস করা হয়।

সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান বাজেট দেওয়ার পর তা বাস্তবায়ন পর্যায়ে বিভিন্ন যৌক্তিক কারণে কিছুটা সংযোজন এবং তা সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়।

দেশে করোনা সংক্রমণ প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বছর বাজেটের সংযোজন-বিয়োজন বা সমন্বয়ের কারণটি আমাদের সবার জানা। বৈশ্বিক মহামারী কোভিড ১৯ এর বিবেচনায় আমরা সম্পূরক বাজেটে রাজস্ব আয় ও ব্যয় কিছু সমন্বয় করার চিন্তা করেছি। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও আমরা ৮. দশমিক ২ শতাংশ কমিয়ে ৫ শতাংশ ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছি। আমরা যদি এই পুনর্নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারি তা হবে দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ।

তিনি জানান, সম্পূরক বাজেট করোনা দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্যসেবা খাত, স্বাস্থ্য চিকিৎসা বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে অতিরিক্ত তিন হাজার ৬০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাজেট না দেওয়া হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ তোলার কোনও ব্যবস্থা নেই উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের এবারের (আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছর) বাজেটে সব ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছে দেশের মানুষ। দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। এই করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে আমাদের চেষ্টা থাকবে মানুষকে যতটা সম্ভব রক্ষা করা। আল্লাহর অশেষ রহমত থেকে আমরা সেই কাজটি করবো।

Previous post ৬ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়লো
Next post স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে মানববন্ধন