এবার হিন্দু সাধুদের দাবিতে অযোধ্যা শহরেও বাবরী মসজিদের জমি দেওয়া হলো না

ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২০ । মুসলিম বিশ্ব ডেস্ক



ভারতের অযোধ্যায় মুসলমানদের পাঁচশত বছরের ঐতিহাসিক শহীদ বাবরী মসজিদকে ধবংস করে দেশটির উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো। আর তাদের দাবি শহীদ বাবরী মসজিদের জমিতে রাম মন্দির ছিলো। তবে আদালতে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমান মেলেনি। তবুও গত বছরের শেষের দিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট শহীদ বাবরী মসজিদের জমিতে হিন্দুদের রাম মন্দির নির্মানের রায় ঘোষনা করে। এ রায়কে সাম্প্রদায়িক ও হিন্দত্ববাদী রায় বলে বারবার বলে আসছে মুসলিম ওয়াকফ বোর্ড। রায়ে সুপ্রিম কোর্ড বলেছিল, বাবরী মসজিদের জমিতে রাম মন্দির নির্মাণ হবে। আর মুসলমানদের জন্য অযোধ্যাতে মসজিদের জন্য ৫ একর বিকল্প জমি দেওয়া হবে। কিন্তু তা অযোধ্যা শহর না জেলায়, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেনি।

ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে অযোধ্যার হারানো বাবরী মসজিদের জমি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে, লখনউ হাইওয়ের পাশে জমি বরাদ্দ করল। অযোধ্যা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। ফৈজাবাদ জেলার নাম বদলে অযোধ্যা করেছিল উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগী সরকার। এই জেলার মধ্যেই ধন্নীপুর গ্রামে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের জন্য মসজিদের জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। সর্বভারতীয় মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের একাধিক সদস্য বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে বলেছেন, তারা যেন এই জমি গ্রহণ না করে।

মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য কমল ফারুকির মতে, ‘‘তাজমহলে জমি দিলেও আমাদের তা গ্রহণ করা উচিত নয়।’’ বোর্ডের আর এক সদস্য উসমান ফারুকিরের মতে, ‘‘সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড দেশের মুসলমানদের প্রতিনিধি নয়। ওয়াকফ বোর্ড জমি নিলেও তা দেশের মুসলিমদের সিদ্ধান্ত বলে ধরে নেয়া উচিত হবে না।’’ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড কী করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি বোর্ডের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। বোর্ডের চেয়ারম্যান জাফর ফারুকির বলেন, ‘‘এ দেশের মুসলিমরা ফকির নন যে অর্থের দরকার। এটা ন্যায়ের প্রশ্ন।’’

কেন অযোধ্যা শহরের মধ্যেই জমি বরাদ্দ করা হলো না? সরকারি সূত্রের খবর, অযোধ্যার হিন্দু সাধুদের দাবি, অযোধ্যার তথাকথিত রামজন্মভূমি ঘিরে হিন্দুরা কার্তিক মাসে ১৪ ক্রোশ পথ পরিক্রমা করেন। পরিক্রমার পরিধির বাইরে মসজিদের জমি দিতে হবে। সেই দাবি মেনে নিয়েই ওই জমি বেছে নেয়া হয়েছে।