কওমীপিডিয়া : কওমী মাদরাসা ও ওলামায়ে কেরামদের সমৃদ্ধ তথ্যকোষ

ডিসেম্বর ৫, ২০১৯ | মারজান হোসাইন চৌধুরী

ছবি : আল আমিন

কওমী অঙ্গনে বেশ সাড়া ফেলেছে কওমীপিডিয়া। মূলত কওমী মাদরাসা সমূহ ও কওমী ওলামায়ে কেরামদের সম্পর্কিত তথ্য সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে কওমীপিডিয়া নামক এই তথ্যকোষ।

২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে কওমীপিডিয়া। এর শুরু, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে কথা হয় প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল হাসান জাহিদের সঙ্গে। যিনি একাধারে সাংবাদিক ও তরুন আলেম। সিলেটের একটি স্থানীয় পত্রিকার বিভাগীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

ইনসাফ: কওমীপিডিয়া কী?

ইকবাল হাসান জাহিদ: কওমী মাদরাসা সমূহের ইতিহাস ও কওমী ওলামায়ে কেরামদের জীবনী সংক্রান্ত একটি সমৃদ্ধ তথ্যকোষের নামই হচ্ছে কওমীপিডিয়া।

ইনসাফ: কওমীপিডিয়ার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?

ইকবাল হাসান জাহিদ: স্যাটেলাইটের সাহায্যে গোটা বিশ্ব এখন একটি গ্রামে পরিণত। ইন্টারনেটের অবদানে সারা দুনিয়ার সকল তথ্য ও ইতিহাস-ঐতিহ্য এমনকি জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রচার ও প্রসার ঘটছে অবিরত। ইনসাফভিত্তিক ন্যায়পরায়ন মানুষজনের সোনালী ইতিহাসকে ধামাচাপা দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী সম্প্রদায় তথা শান্তির ধর্ম ইসলাম বিদ্বেষীরা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করে চলেছে ক্রমাগত। এর বিপরীতে ইসলামী ভাবধারার স্থায়ী ও মৌলিকভাবে ইসলামের সোনালী ইতিহাস এবং ওলামায়ে কেরামের অবদান ও জীবনের সফলতার ইতিহাস এবং মাদারিসে কওমীয়ার সোনালী ইতিহাসকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্যেই মূলত কওমীপিডিয়ার যাত্রা।

ইনসাফ: কওমীপিডিয়া শুরু করতে গিয়ে প্রথম দিকের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন।

ইকবাল হাসান জাহিদ: কওমী পিডিয়া কি? এটার কাজ কি? লাভ কি? শুধু এগুলো আমার বন্ধুবান্ধবদের বুঝাতে প্রায় এক বছর লেগেছে। ‘কওমীপিডিয়ার দ্বারা ফায়দা কী হবে’ এমন প্রশ্ন এখনও অনেকেই করেন। তবে এর সংখ্যা এখন প্রায় ১-২ শতাংশ। আলহামদু লিল্লাহ। এখন যারাই কওমীপিডিয়ার কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, পারছেন তারা সকলেই আশার আলো দেখছেন। এবং সকলেই সহযোগিতা ও পরামর্শের আশ্বাস দিচ্ছেন।

ছবি : আল আমিন

ইনসাফ: বর্তমানে কওমীপিডিয়া কোন পর্যায়ে আছে?

ইকবাল হাসান জাহিদ: এখন মাশাআল্লাহ ব্যপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো দিন এক সাথে ১০-১৫টি মাদরাসার তথ্য ও ইতিহাস চলে আসছে আমাদের সাইটে। কোনদিন এরচেয়ে কম। আমরা আশা করছি এভাবে তিলে তিলে একদিন এই সাইটে বাংলাদেশের সকল মাদরাসার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও তথ্য সংরিক্ষত হয়ে যাবে এবং সকল শ্রেণির ওলামায়ে কেরামের জীবনী আমাদের এখানে সংরক্ষিত হয়ে যাবে।

ইনসাফ: কওমীপিডিয়া মানুষের মাঝে কতটুকু সাড়া ফেলেছে?

ইকবাল হাসান জাহিদ: আসলে কওমীপিডিয়া সকল মানুষের কাছে সাড়া পড়ার দরকার নাই। এটা আপাতত মাদারিসে কওমীয়া সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে সাড়া পড়লেই হবে। কারণ প্রথমে আমাদের মাদারাসাগুলোর ইতিহাস ও তথ্য আসতে হবে। তারপর ওলামায়ে কেরামের জীবনী আসতে হবে। আর সমৃদ্ধ হওয়ার পর সাধারণ শ্রেণির মানুষের কাছে এবং বিশেষ করে জেনারেল শিক্ষিত মানুষের কাছে সাড়া পড়ার দরকার বলে আমরা মনে করি। কারণ এই শ্রেণির মানুষের কাছে আমাদের আসল ইতিহাস ও তথ্য পৌছে দেয়াকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। তারা যখন মাদরাসিয়ে কওমীয়া সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখবে তখন আমাদের কাজের সফলতা আসবে।

ইনসাফ: কওমীপিডিয়ার সঙ্গে কারা যুক্ত আছেন?

ইকবাল হাসান জাহিদ: এর সঙ্গে মূলত কওমী মাদরাসার সকল ওলামায়ে কেরামই যুক্ত। কারণ সকলের সহযোগিতা ও পরামর্শ ছাড়া এটার শূন্যস্থান পূরণ করা অসম্ভব। কাজ করছেন এমন তরুণ ওলামায়ে কেরাম দেশের সকল বিভাগ থেকেই একজন করে আছেন এবং বিভিন্ন জেলায়ও আমাদের কো-অর্ডিনেটর আছেন। তারা যার যার অবস্থান থেকে কওমীপিডিয়ার জন্য কাজ করছেন। বিশেষ করে কওমীপিডিয়া প্রতিষ্ঠা করতে যারা শুরুলগ্ন থেকে সময়, শ্রম ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা ও পৃষ্টপোষকতা করছেন তাদের কথা অনস্বীকার্য।

ইনসাফ: কওমীপিডিয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

ইকবাল হাসান জাহিদ: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলতে আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। কওমীপিডিয়া দ্বারা দেশের সাধারণ শিক্ষিতশ্রেণির মানুষ একটা মহান শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবে। এখানে সারা দেশের সকল পর্যায়ের ওলামায়ে কেরামের জীবনেতিহাস এবং সমাজে যার যার অবদান ও অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরবে কওমীপিডিয়া। বিশাল এক জনগোষ্ঠীর দ্বারা দেশ জাতী ও সমাজ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, কতটুকু ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তার একটা সাদামাটা রুপরেখা চলে আসবে। পাশাপাশি দেশের সকল স্তরের মসজিদের ইমাম ও হাফেজে কুরআনদের জীবনবৃত্তান্ত ও তাদের সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে সকল প্রকার তথ্য ও অবদান কওমীপিডিয়ায় সংরক্ষিত থাকবে। যাতে করে বাংলাদেশে কওমী মাদরাসা সংশ্লিষ্ট সকলপ্রকার মানুষের অবদান এবং কর্মপক্রিয়া সম্পর্কে যে কেউ সহজে জানতে ও ধারণা পেতে পারে। কওমীপিডিয়া গোটা দেশের মাদরাসাসমূহের চলমান অবস্থা ও নিরক্ষরতা দূরীকরণে সমাজে মাদরাসাসমূহের অবদান সম্পর্কে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ধারণা দেবে। পঞ্চাশোর্ধ সকল ওলামায়ে কেরামের জীবনবৃত্তান্ত ছবিসহ সংরক্ষিত থাকবে। ওলামায়ে কেরামের সরল জীবন ও জটিল সংগ্রাম সম্পর্কে মুটামোটি একটা ধারণা নেয়া সম্ভব হবে কওমীপিডিয়ার মাধ্যমে। এই কাজগুলো নিষ্টা ও দক্ষতার সাথে আঞ্জাম দিয়ে যাওয়াই কওমীপিডিয়ার পরিকল্পনা।

ছবি : আল আমিন

ইনসাফ: কওমীপিডিয়ায় তথ্য পাঠানোর নিয়ম কি?

ইকবাল হাসান জাহিদ: দুইটি মাধ্যমে তথ্য পাঠানো যায়। ১- গুগলে সার্চ করলে আমাদের ওয়েব সাইট পাওয়া যাবে। আবার গুগল প্লেস্টোরে আমাদের মোবাইল এপস আছে। সেটার মাধ্যমেও তথ্য পাঠানো যাবে। গুগলে ঢুকে www.qowmipedia.com লিখে সার্চ করে কওমীপিডিয়ার হোম পেইজে ঢুকে, “আপনার মাদরাসার তথ্য পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন” এবং “আলেমগণের জীবনী পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন” এই দুই অপশনে ক্লিক করলেই নির্ধারিত ফরম চলে আসবে। ফরমে সকল ঘরেই তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে। পূরণ করে সাবমিট অপশনে ক্লিক করলেই কন্ট্রল প্যানেলে চলে যাবে সকল তথ্য। অবশ্যই তথ্য দানকারীর নাম ও মোবাইল নাম্বার দিতে হবে।

ইনসাফ: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

ইকবাল হাসান জাহিদ: আপনাকেও ধন্যবাদ।