থানায় নিয়ে গৃহবধূকে একাই ৩ বার ধর্ষণ করলেন ওসি; তারপর এসআই ও অন্যরা

আগস্ট ১১, ২০১৯

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


থানায় আটকে এক গৃহবধূকে পরপর তিনবার ধর্ষণ করেছেন খুলনার জিআরপি থানার ওসি ওসমান গনি পাঠান।

পরে ওসি ওসমান গনি একই থানার এসআই ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের হাতে তুলেন দেন ঐ গৃহবধূকে। তারাও একে এক ধর্ষণ করে গৃহবধূটিকে।

খুলনার জিআরপি থানায় গত ২ আগস্ট রাতের এ ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার (৯ আগস্ট) রাতে দায়ের হওয়া মামলায় এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী নিজেই।

একইসঙ্গে সেদিন রাতে থানায় যেভাবে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন তা মামলার এজাহারে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন ওই গৃহবধূ।

এদিকে, চাঞ্চল্যকর এ গণধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পরও গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদের একের পর এক হুমকি দিচ্ছে ধর্ষকরা। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত আসামিদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

৯ আগস্ট রাতে থানায় দায়ের হওয়া মামলায় ধর্ষিত গৃহবধূ উল্লেখ করেছেন, আটকের পর ডিউটি অফিসারের (এসআই) সহায়তায় আমার ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালান ওসি ওসমান গনি পাঠান। ঘটনার দিন রাত দেড়টার দিকে আমাকে অপর একটি কক্ষে নিয়ে যান ডিউটি অফিসার। ওসি ওই কক্ষে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা আটকে দেন। এরপর মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে পরপর তিনবার আমাকে ধর্ষণ করেন ওসি।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করেন ওসি। ওসির পর আমাকে ধর্ষণ করেন মুখে দাগওয়ালা ডিউটি অফিসার। এরপর বাকি তিনজন পুলিশ সদস্য আমাকে ধর্ষণ করেন। তারা সবাই ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করেছেন। ধর্ষণের সময় আমাকে মারপিটও করা হয়।

আলোচিত এ মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী আরও উল্লেখ করেন, পরদিন শনিবার আমার বিরুদ্ধে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালত আমাকে কারাগারে পাঠায়। পরে আইনজীবীর মাধ্যমে রোববার আমাকে আদালতে আনা হয়। তখন আদালতে বিচারকের সামনে নেয়ার পর জিআরপি থানায় গণধর্ষণের বর্ণনা দেই আমি। আদালতের বিচারক বক্তব্য শুনে আমার ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন। সোমবার দুপুরে আমার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে মামলা দায়ের করার জন্য আদালত থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়ার পর শুক্রবার আমার মামলা নেয় পুলিশ।

এদিকে এরইমধ্যে এ গণধর্ষণের ঘটনা তদন্তে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম গত সোমবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটিও এ ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গঠন করে দেয়া তদন্ত কমিটির প্রধান এসপি সেহেলা পারভীন ওই থানার পুলিশ সদস্য ও ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। সে বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে এখনও কিছুই না জানালেও ‘তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে ব্রিফ করা হবে’ বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।