করোনাভাইরাসে অর্থনীতি মন্দা: লেবাননে কারফিউর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নাহিয়ান হাসান


মুদ্রার দরপতন এবং খাদ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে ক্রোধে ফুঁসতে থাকা লিবিয় লোকজন কারফিউ উপেক্ষা করে আবার রাস্তায় নেমে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। তবে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে তারা পুলিশের সাথে সহিংস সংঘর্ষের লিপ্ত হয়ে যায়। উক্ত সংঘর্ষে পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন বিক্ষোভকারী মারা গেছেন বলে জানা যায়।

বিক্ষোভকারী মারা যাওয়ার পর বিক্ষোভ আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি ধারণ করে। ত্রিপোলিতে রাস্তায় চলা বিক্ষোভ ‘দাঙ্গায়’ পরিণত হওয়ার কারণে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী ব্যাংকগুলিতে হামলা চালায় এবং একটি সেনাবাহিনীর গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়।

সেনাবাহিনী টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেটের মাধ্যমে প্রতিবাদকারীদের মুখোমুখি হওয়ায় এখন পর্যন্ত ৪০ জনেরও বেশি সাধারণলোক এবং ছয়জন সেনা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

সংঘর্ষের সময় রাবার বুলেটের আঘাতে ২৬ বছর বয়সী ‘ফোয়াজ আল-সামান’ নামী একজন লিবিয় বিক্ষোভকারী আহত হলে, দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। আহত অবস্থাতেই তিনি হাসপাতালে মারা যান।
“নোভেল করোনভাইরাস প্রতিরোধে বিশাল সমাবেশের উপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল”, তা উপেক্ষা করেই শত শত লোক ভুক্তভোগীর জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন।

‘আল সামানের শোকাহত পিতা’ তার পুত্রকে ঐ সমস্ত লোকদেরই একজন হিসেবে বর্ণনা করেছেন,”যারা এই বৈশ্বিক মহামারীতে ক্ষুধার্ত এবং না খেয়ে দিন যাপন করছেন”।

লেবাননের সেনা কমান্ড পরে সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিক্ষোভ চলাকালীন শহীদদের ইন্তেকালের জন্য গভীর অনুশোচনা” প্রকাশ করেছিল এবং বলেছিল যে এই ঘটনার তদন্ত অতিশীঘ্রই শুরু করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেনাবাহিনী এই সহিংসতায় প্ররোচিত করার জন্য বিক্ষোভে “অনুপ্রবেশকারীদেরকে” অভিযুক্ত করেছে এবং বলেছে যে, “ব্যাংক ও সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন লাগানোর জন্য এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে একটি হাতবোমা নিক্ষেপের কারণে ইতিমধ্যে নয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে”।

গত সপ্তাহে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছিল যেহেতু সরকার করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে লকডাউনটি সহজ করতে শুরু করেছিল।

মঙ্গলবার(২৮ এপ্রিল) বৈরুতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকশ কর্মী শহীদ স্কোয়ারে প্যারেড করে এবং”বিপ্লব, বিপ্লব” শ্লোগান দিয়ে রাস্তা অবরোধ করার একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর যানবাহনে পাথর নিক্ষেপ শুরু করে।

বিক্ষোভকারীরা রাস আল-নাবাতে ব্যাংক অডিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সম্মুখভাগটি ধ্বংস করে দেয়।

লেবাননে জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়কারী, জন কুবিটস বলেছেন যে “ত্রিপোলিতে মর্মান্তিক ঘটনাগুলি দেশের রাজনৈতিক নেতাদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত ছিল।”

তিনি আরো বলেন,”বিক্ষোভকারীরা ব্যাংকগুলিতে আক্রমণ করার জন্য এটি সঠিক সময় নয়,” বরং, এই মুহূর্তটি হল দেশজুড়ে হতাশ, দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত লেবাননদের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রদানের সময়।”

‘প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব’ মন্ত্রিপরিষদের অধিবেশনকে বলেছিলেন, “এই মুহুর্তে মানুষ রাস্তায় নেমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করা স্বাভাবিক, বিশেষত যখন দেখা গেছে যে “এমন রাজনৈতিক প্রচেষ্টা হয়েছে যা দুর্নীতির তদন্ত শুরু করতে সরকারকে বাধা দিবে”।

তবে, তিনি বলেছিলেন যে “এই হামলাগুলি নিরাপত্তা স্থিতিশীলতাকে নাড়িয়ে দেওয়ার দূষিত অভিপ্রায় যা মোটেও মেনে নেওয়ার নয়। এটা আগুন নিয়ে খেলার নামান্তর। বিশেষত স্থিতিশীলতা নিয়ে অনধিকার চর্চা একেবারেই নিষিদ্ধ।”

ম্যারাডা আন্দোলনের নেতা সুলেমান ফ্রেঙ্গিহ বলেছেন, “আমরা একটি কুরুচিপূর্ণ এবং কঠোর পর্যায়ে যাচ্ছি যার জন্য ধৈর্য, ​​শক্তি এবং বিশ্বাস প্রয়োজন।”

‘হিজবুল্লাহ’র উপনেতা শেখ নাঈম কাসেম মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বলেন, ঐ মুদ্রানীতি যার কারণে পুরো দেশ পতনের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছিল, তার জন্য শুধুমাত্র “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ‘রিয়াদ সালামেহকে দায়ী করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘সালামেহ’ দায়বদ্ধ ঠিকই তবে শুধু তিনি একাই দায়বদ্ধ নন বরং বর্তমান সঙ্কট পূর্ববর্তী সরকারের গঠিত নীতিমালার বহু বছরের জমে থাকা ফলাফল”।

এদিকে, জাতীয় বিমান সংস্থা এমইএ বিদেশ থেকে লেবানন ফেরত বিমান চলাচল শুরু করেছে। মঙ্গলবার সাইপ্রাস, দাম্মাম, প্যারিস, লাগোস এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র থেকে ছয়টি বিমানের আগমন ঘটে।