করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল জালিয়াতি; এফবিআই'র সতর্কবার্তা

করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল জালিয়াতি করে কর্মীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো এফবিআই।
কোম্পানির যেসব কর্মী নিজেদের কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত বলে জানাবে, তাদের ব্যবস্থাপত্র ও চিকিৎসা সংক্রান্ত অন্যান্য নথির সত্যতা যাচাই করতে এফবিআই কোম্পানিগুলোর কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়েছে।
সোমবার এফবিআইয়ের বেসরকারি খাত বিষয়ক দপ্তর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এমন পরামর্শ দিয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কর্মীদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া ফলের কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ ও কর্মস্থল জীবাণুমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে কোম্পানিগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
এ ধরনের একটি ঘটনায় ‘জটিল প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা’ এক কোম্পানির এক লাখ ৭৫ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে এফবিআই।
ওই কোম্পানিতে কর্মরত এক ব্যক্তি মার্চে নিজেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দাবি করে ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত পরীক্ষার নথি জমা দেন।
“ওই ব্যক্তি যেখানে কাজ করতেন, জীবাণুমুক্ত করতে সেই কারাখানাটি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়। উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, আটকে যায় প্রয়োজনীয় উপকরণের সরবরাহ। কোম্পানি কারখানার সব কর্মীকে এ বিষয়ে অবহিত করে; আক্রান্ত বলে দাবি করা ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছে এমন চারজনকে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়,” বলা হয় এফবিআইয়ের ওই প্রতিবেদনে।
পরে আক্রান্ত দাবি করা ব্যক্তির করোনাভাইরাস শনাক্তে পরীক্ষা সংক্রান্ত নথি দেখে ঊর্ধ্বতনদের সন্দেহ বাড়ে।
যে নথিতে ওই কর্মীর কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল ‘পজেটিভ’ লেখা রয়েছে, তার উপরে কোনো হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক লেটারহেড ছিল না।
এমনকী নথিতে থাকা ফোন নম্বরটির সঙ্গেও ব্যক্তিটি যেখানে করোনাভাইরাস শনাক্তে পরীক্ষা করিয়েছেন বলে লেখা রয়েছে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে কর্মকর্তারা উদ্ঘাটন করেন।
কর্মীর ওই জালিয়াতির কারণে উৎপাদন বন্ধ করে কোম্পানিটি এক লাখ ৭৫ হাজার ডলারের বেশি হারিয়েছে বলে অনুমান এফবিআইয়ের।

Previous post করোনাক্রান্তদের জন্য বিশেষায়িত কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের চিকিৎসক করোনাক্রান্ত
Next post ডেমরায় ১২০০ অসহায় মানুষের মাঝে বিএনপির ত্রাণ বিতরণ