করোনাভাইরাস: ফিলিস্তিনে মেডিকেল ও আর্থিক সহায়তা করবে তুরস্ক

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নাহিয়ান হাসান


করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ফিলিস্তিনে চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা করবে রজব তাইয়েব এরদোগানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ক সরকার।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি এক বিবৃতিতে বলেছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে ওআইসির এক জরুরি বৈঠকে ‘তুরস্ক’ ফিলিস্তিনের জন্য একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অচিরেই কোভিড -১৯ টেস্ট কিট, মাস্ক, বিশেষ নিরাপত্তা পোশাক এবং অন্যান্য প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে সরবরাহ করা হবে।

‘আল-মালেকি’ তার তুরস্কের সহযোগী মেভলিয়েট ইভভুয়েওলু এবং তুর্কি সরকারকে সহায়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

পশ্চিম তীরে ইহুদীবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের অবৈধ দখলে থাকা অঞ্চলে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের বিপরীতে যথাযথ চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুতর ও কঠিন বিষয়।

এমনকি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) আধিকারিকরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লুএইচও) নির্দেশকে যথাযথ ভাবে অনুসরণ করলেও বছরের পর বছর ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্বে থাকা ফিলিস্তিনিদের উপর চলতে থাকা নির্যাতন ও অমানবিকতা ফিলিস্তিনের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে এবং ফিলিস্তিনিদেরকে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে।

যদিও সমস্ত ফিলিস্তিনি ইহুদীবাদী অবৈধ দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইলের সামরিক নখদর্পনে বাস করছে কিন্তু গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেখানকার পরিস্থিতি ফিলিস্তিনের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও অনেকবেশি জটিল এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ইহুদীবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের অযৌক্তিক, অন্যায় অবরোধের ১৩টি বছর সহ্য করে চলে আসা ‘গাজায়’ বসবাসরত ফিলিস্তিনি জনগণ এখনও ইসরাইলের বেশ কয়েকটি যুদ্ধে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ কর্তৃক তাকে “বসবাসের অযোগ্য স্থান” হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে

গাজার দুর্দশা যেনো কখনোই শেষ হওয়ার নয়। ‘গাজার’ সুস্থ ও অসুস্থতা সংক্রান্ত চিকিৎসা সুবিধা এবং গত দশ বছর যাবৎ এ সম্পর্কিত প্রস্তুতি সম্পর্কে করা জাতিসংঘের কোনো প্রতিবেদনেই কোনোপ্রকারের ‘ইতিবাচক’ এমনকি আশাব্যঞ্জক শব্দ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি।

গাজায় ইহুদীবাদী অবৈধ রাষ্ট্রের এই দীর্ঘ অবরুদ্ধতা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনের জীবনকে বিধ্বস্ত করেছে। ছিটমহলের ৭০% যুবক বেকার এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

গাজার বাড়ি, অফিস এবং হাসপাতালগুলিতে প্রতিদিন গড়ে চার থেকে ছয় ঘন্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।