করোনার চেয়ে ভয়ঙ্কর আওয়ামী লীগ: রিজভী

‘করোনা নিয়ে আতঙ্কের মতো পরিস্থিতি হয়নি, করোনার চেয়েও আমরা শক্তিশালী’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এই সমস্ত কথাবার্তা বৈশ্বিক বিপদের মুখে মানুষের সঙ্গে মশকরা করার সামিল। সরকারের মন্ত্রীরা এতদিন ধরে বলে আসছিলেন, করোনা প্রতিরোধে উন্নত দেশের চেয়ে ভালো ব্যবস্থা আছে বাংলাদেশে। কয়েকদিন আগে তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ গোয়েবলসীয় কায়দায় বলেছিলেন, করোনা নাকি বিএনপির অপপ্রচার। আসলে করোনাভাইরাসের চেয়ে আমরা শক্তিশালী নয়, বরং করোনার চেয়ে ভয়ংকর আওয়ামী লীগ।

শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডবি্লউএইচও) পক্ষ থেকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক অতি মহামারী হিসেবে ঘোষণার পর বিভিন্ন দেশ তা প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ নিলেও সরকার যথাসময়ে করোনা বিপর্যয়কে গুরুত্ব দেয়নি। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলা করার জন্য প্রায় দুই মাস সময় পেলেও সরকার এবিষয়ে ভ্রুক্ষেপহীন থেকেছে। ভাইরাসে সংক্রামকদের চিকিৎসায় বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্ধারণ, সংক্রামক শনাক্তকরণসহ চিকিৎসক-নার্সদের প্রয়োজনীয় পোশাক (পিপিই) ও যন্ত্রপাতি কোন কিছুই সরকার ব্যবস্থা করতে পারেনি। ঢাকার বাইরে কোন হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত বা আইসোলেশনে থাকা ব্যক্তিদের থাকা-খাওয়া এবং আসবাবপত্র নেই। নেই চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় পোশাক ও ওষুধ। সেন্টারে নেই খাট, বেডসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র।

তিনি বলেন, ডাক্তাররা, বিশেষ করে আউটডোরে যারা চিকিৎসা দেন, সেই ইন্টার্নিরা ‘পিপিই’ পরিধান না করলে তারা নিজেরাই করোনা আক্রান্ত হবেন, আর একজন ডাক্তার আক্রান্ত হওয়া মানে শত শত নতুন রোগী সৃষ্টি করা। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করতে নিরাপত্তা পোষাকের দাবীতে বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্নশীপ ডাক্তারগণ। রাজশাহীর মতো প্রতিটি হাসপাতালে যারা জ্বর নিয়ে ভর্তি হতে যাচ্ছেন তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেশের কোন হাসপাতালই জ্বরের রোগী ভর্তি করছে না, ফিরিয়ে দিচ্ছে। হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি পুরাতন শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদেরও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না।

রিজভী বলেন, আক্রান্তরা জানতে পারছেন না করোনাভাইরাস, না অন্যকিছু! কারণ করোনার টেস্ট করার জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে হাজার হাজার ব্লাড স্যাম্পল গেছে জাতীয় রোগতত্ত, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরে। কিন্তু তাদের কাছে কোনো টেস্টিং কীট নেই। যে ১ হাজার ৭ শত টেস্টিং কীট ছিল তার মধ্যে অনেকগুলো খরচ হয়ে গেছে এয়ারপোর্টে নাটক করতে। বাকী যে কয়টা আছে, তা দিয়ে কি এমন হবে। হটলাইনের নামে এখন চলছে আইওয়াশ। রোগতত্ত, নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনষ্টিটিউট বা আইইডিসিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, গড়ে প্রতিদিন মাত্র ১৫-২০ জনের পরীক্ষা হচ্ছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ সন্দেহে এপর্যন্ত মাত্র তিন শতাধিক জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত দেশগুলো থেকে গত এক সপ্তাহেই প্রায় এক লাখ মানুষ দেশে এসেছেন এবং এর সাথে তুলনা করলেও স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা নগণ্য। ১৭ কোটি মানুষের দেশে যেখানে কয়েক লাখ ‘পিপিই’ দরকার, বেড দরকার কয়েক হাজার, আইসিইউ দরকার, অক্সিজেন দরকার-সেখানে করোনা ধেয়ে আসছে জেনেও গত আড়াই মাসে তা প্রতিরোধে কিছুই করেনি সরকার।