করোনার মধ্যেই গরীবের চাল মেরে খেলেন চেয়ারম্যান!

করোনা আতঙ্কের মধ্যেই বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নে জেলেদের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টুর বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এ ঘটনায় বিকেলে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির তদন্তে গেলে চেয়ারম্যানের বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউপির কার্ডধারী ৫৫০ জন জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ-এর ৪৪ টন চাল গ্রহণ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু। প্রতি জেলেকে দুমাসের জন্য ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ করার কথা।

কিন্তু চেয়ারম্যান ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে প্রতি জেলেকে ৩০ কেজি করে বিতরণ করেছে। প্রতেক জেলেকে ৫০ কেজি চাল কম বিতরণ করেন। এতে ৫৫০ জন জেলের মোট ২৭ হাজার ৫০০ কেজি চাল আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু।

স্থানীয় আলম পহলান জানান, শুধু ভিজিএফের চাল ছাড়াও কাকচিড়া ইউনিয়নে পরিষদে যত ধরনের সহয়তা আসে তার সবক্ষেত্রেই দুর্নীতি করে এই চেয়ারম্যান। এর আগেও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল।

ইউপি সদস্য সোনিয়া আক্তার জানান, রাতে চেয়ারম্যান ফোন দিয়ে জানায় আপনি ৪০ জনের নামের তালিকা দেন সকালে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ করবো। তখন কোন মতে তাকে নামের তালিকা দেই। কিন্তু পরদিন সকাল ৭টায় পরিষদে এসে দেখি চাল বিতরণ করা শেষ।

ভিজিএফ চাল বিতরণে দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) রনজিৎ মিস্ত্রী জানান, চাল বিতরণের কোন খবর আমার জানা নেই। যেখানে চাল বিতরণের একদিন আগে আমাকে পরিষদ থেকে অবহিত করার কথা। সেখানে আমাকে না জানিয়ে আমার অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণ হয়েছে, যা অনিয়ম।

অভিযুক্ত কাকচিড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু জানান আমি ১৪৬৬ বস্তা চাল পেয়েছি যা ১৪৬৬ জনকেই বিতরণ করা হয়েছে। ৫৫০ জনের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ১৪৬৬ জনকে বিতরণের নিয়োম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির জানান, চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু চাল বিতরণ অনিয়ম করেছে। বরাদ্দকৃত ৪৪ মেট্রিকটন চালের মধ্যে শাড়ে ১৬ মেট্রিক চাল বিতরণের সঠিক প্রমাণ দিতে পেরেছে। বাকি শাড়ে ২৭ মেট্রিকটন চাল বিতরণের কোন সঠিক প্রমান দিতে পারেনি।