করোনায় টালমাটাল স্পেন: দিন-দুপুরে ডাকাতি করছে ব্যবসায়ীরা

মহামারী করোনাভাইরাস ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে স্পেনের সরকার। এমনকি এখন বাজারও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও এর সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোটাই এখন কালোবাজারিদের দখলে। সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া। বেশি টাকা দিয়েও মিলছে না সুরক্ষামূলক মাস্ক, গ্লাভস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

দেশজুড়ে লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি বেশি লাভ করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। তাদের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। তাদের ‘ডাকাত ও দস্যু’ বলে অভিহিত করে অনেকে বলছেন, দিন-দুপুরে ডাকাতি করছে ব্যবসায়ীরা।

বিশ্বের করোনাপীড়িত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাজেভাবে আক্রান্ত স্পেন। সংক্রমণ ঠেকাতে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তালাবন্দি পুরো দেশ। সব রেস্তোরাঁ, বার, হোটেল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

শুধু খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধ কেনার জন্য সুযোগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া কর্মস্থল, হাসপাতাল এবং ব্যাংক যাতায়াত করার অনুমতিও রয়েছে। কিন্তু বাইরে গিয়েও খাবার ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। পেলেও দাম আকাশচুম্বী। খেটে খাওয়া ও নিুআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।

অবৈধ মজুদ গড়ে তুলেছে ব্যবসায়ীরা। গত সপ্তাহেই মাদ্রিদের একটি ফ্যাক্টরি থেকে দেড় লাখ মাস্ক উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ বাহিনী। পরে সেগুলো সাধারণ মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেয়া হয়।

স্পেনবাসীর জন্য এটা নতুন অভিজ্ঞতাও বটে। যেমনটা বলছেন রাজধানী মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় এলাকার ফার্মেসি মালিক আর্নেস্টো রুইজ লোপেজ। তিনি জানান, গত দুই সপ্তাহে তিনি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তা জীবনেও দেখেননি।

তিনি বলেন, তার ফার্মেসিতে মাস্ক, গ্লাভস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সরবরাহকারীরা এগুলো আর দিচ্ছে না। উচ্চমূল্য দাবি করছে তারা।

এদিকে শনিবার একদিনেই দেশটিতে ৮ শতাধিক মানুষ করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইতালি ও চীনেও এত দ্রুত মৃতের সংখ্যা বাড়েনি।

Comments are closed.