করোনা আতঙ্কের মধ্যে কারাগারে প্রতিদিন নতুন বন্দী যাচ্ছে

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও প্রতিদিন ঢাকার আদালত থেকে বিভিন্ন মামলার আসামিদের শুনানির পর প্রেরণ করা হচ্ছে কারাগারে। পক্ষান্তরে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া বন্দীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় বন্দীদের কোনো কোনো সেলে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দেশের বিভিন্ন কারাগারে মোট ৪০ বন্দীকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বলে জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা ও সুরক্ষাসেবা বিভাগ।

কর্তৃপক্ষ জানায়, কারা প্রশাসন থেকে বন্দীদের স্বাস্থ্যগত সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। গত সোমবার থেকেই কারাগারের প্রধান ফটকে নতুন বন্দীদের তাপমাত্রা মেপে কারা-অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হয়েছে। সাথে কারারক্ষীসহ সংশ্লিষ্টদেরও।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত নিম্ন আদালতের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ও ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপরও ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলার থানাগুলো থেকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অভিযোগে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আদালতগুলো ছুটিতে থাকলেও উল্লেখিত অপরাধে গ্রেফতারের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে শোনার জন্য দু-একজন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। ছুটি ঘোষণার কারণে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে শুনানিতে আসছেন না। ফলে আদালত নিজে শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন এবং আসামিদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিচ্ছেন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর আদালত এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়েছে। তারপরও নতুন গ্রেফতার হওয়া আসামিদের শুনানির জন্য সিএমএম আদালতের অধীনে ৩৫টি আদালতের মধ্যে দু’টি আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে ঢাকা জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একজন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ঢাকার সিএমএম আদালত এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ৬১ জন আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এদের মধ্যে সিএমএম আদালত থেকে ৫৪ জনকে এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে সাতজনকে পাঠানো হয়।

গতকাল পর্যন্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের ৬৮ কারাগারে মোট বন্দী ছিলেন প্রায় ৮২ হাজার ৮২৮ জন। গতকাল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি সূত্র নাম না প্রকাশের শর্তে একটি জাতীয় দৈনিককে জানায়, আজকে পর্যন্ত এ কারাগারে ৯ হাজারের মতো বন্দী অবস্থান করছে। তবে গত ২৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত কোনো বন্দী কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পায়নি।

সূত্রটি জানায়, এই সময়ের মধ্যে নতুন বন্দী প্রতিদিন কারাগারে আসছে। তবে অন্য সময়ের তুলনায় বন্দী আসার সংখ্যা অনেক কম। কোনোদিন ৩৫ জনও আসছে। তবে পুরনো বন্দীরা জামিনে মুক্তি পায়নি। তাদের মতে, যদি এসব বন্দীর বিশেষভাবে শুনানির ব্যবস্থা করে জামিনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হতো তাহলে কারাগারে বন্দীর চাপ কমত। তারপরও আমরা বন্দীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যা যা করণীয় তার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।