করোনা ইস্যুতে কারাগার থেকে বন্দী কমানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের ৬৮ কারাগারে এই মুহূর্তে আটক রয়েছেন ৮৩ হাজারের মতো বন্দী; যা ধারনক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হুর পরামর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে লকডাউন। সেই লক্ষ্যে ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি ও কয়েদি মিলিয়ে বন্দীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। যা ধারণ ক্ষামতার আড়াই গুণ বেশি। শুধু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার নয়, একই চিত্র বিরাজ করছে গাজীপুরের কাশিমপুরের একমাত্র মহিলা কারাগারসহ দেশের ৬৭টি কারাগারে। প্রতিটি কারাগারে বন্দীদের থাকতে হচ্ছে গাদাগাদি করে। কারা অধিদফতরের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত পর্যন্ত কারাগারে ৮২ হাজার ৮০০ জন বন্দী; যা ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণের কিছু কম।

কারাগার বিশেষজ্ঞরা বলছেন , করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে এই মুহূর্তে কারাগারের ধারণক্ষমতা বিবেচনা করে বন্দী কমানো দরকার। তখন অন্য বন্দীদের থাকতে আর সমস্যা হবে না।

গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) কারা বিশেষজ্ঞ ও সাবেক ডিআইজি প্রিজন মেজর সামছুল হায়দার সিদ্দিকী এক জাতীয় দৈনিক পত্রিকাকে তার ব্যক্তিগত মতামত জানিয়ে বলেন, করোনাভাইরাস একটি ছোঁয়াচে রোগ। সেই তুলনায় কারাগারে মানুষের গেদারিং বেশি থাকে সব সময়। অনেক কারাগারে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। লঘু দণ্ডের যেসব অপারাধী রয়েছে, তাদের যদি জামিনের ব্যবস্থা করা হতো কারাগারগুলোতে বন্দীদের গাদাগাদি করে থাকতে হতো না। তখন ঝুঁকিও কম থাকত। বিষয়টি সরকার এবং সংশ্লিষ্টরা বিবেচনা করে দেখতে পারেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, শুধু বন্দীদের বিষয় দেখলেই হবে না, বন্দীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত যেসব কারারক্ষী এবং ডাক্তার বাইরে থেকে কারাগারে ডিউটি করতে যাচ্ছেন, তাদেরকেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে ডিউটি করতে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বন্দী কমানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় এই মুহূর্তে বন্দীদের যাওয়ার জায়গা কম। যখন লকডাউন শেষ হয়ে যাবে তখন যদি লঘুদণ্ডের বন্দীদের জামিনের ব্যবস্থা করানো যায় তাহলে কমপক্ষে চার-পাঁচ হাজার বন্দী কমে যাবে। এতে কারা সংশ্লিষ্ট সবার মঙ্গল হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিজ্ঞ আদালত লঘু অপরাধ (জামিনযোগ্য) যেমন চুরি, মারামারি, ফ্যামিলি কেস মামলার আসামিদের ৫৬৯ ও ৫৯৪ বিধিতে জামিন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতেন তাহলে কারাগারগুলো থেকে দু-তিন হাজারের মতো বন্দী কমত। তাদের মতে, এই মুহূর্তে মামলার বিষয়গুলো যদি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয় তাহলেও বন্দীর সংখ্যা কমে আসবে বলে মনে করেন তারা।