করোনা ইস্যুতে মুফতী তক্বী ওসমানীর নেতৃত্বে পাকিস্তানে শিয়া-বেরলভীসহ সকল ধারার আলেমদের বৈঠক

| মাহবুব শাহীন


চীনের উহান প্রদেশ থেকে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যে বৈশ্বিক জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও)। এ পর্যন্ত পুরো বিশ্বে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৭০২ জন। মৃত্যু বরণ করেছে ২২ হাজার ২০ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন ১ লাখ সতেরো হাজার ৪ শত ৪৬ জন।

এ সঙ্কটকালীন মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আলেম আল্লামা মুফতী তক্বী উসমানীর নেতৃত্বে শিয়া, বেরলভী ও আহলে হাদিসসহ পাকিস্তানের সকল ইসলামি ধারার আলেমদের একটি জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে সম্মিলিত ব্রিফিং এ পাকিস্তানের জনগণের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুফতী মুনিবুর রহমান, মাওলানা শাহেন শাহ হুসাইন নকভি, মুফতী আবদুর রহীম, মাওলানা আবদুল করীম, মাওলানা মুহাম্মাদ সালাফি, মুফতী ইউসুফ কাশ্মীরি প্রমুখ।

সম্মিলিত ঘোষণা পত্রে বলা হয়েছে:

পাকিস্তানের পুরো জাতি আল্লাহ তায়ালার দরবারে তওবা করবে। দেশটির সরকারের উদ্যোগে জাতীয়ভাবে তওবা-ইস্তিগফারের ব্যাবস্থা এবং মিডিয়ায় সব ধরনের অশ্লীল কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে।

মসজিদ খোলা থাকবে। সেখানে আযান ও জামা’আত জারি থাকবে। মুসল্লিরা ঘরে অযু করবে এবং ঘরে সুন্নাত ও নফল সালাত আদায় করবে। কেননা চিকিৎসাবিদ্যার আলোকে সংস্পর্শের কারণে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।

চিকিৎসাগত কারণে সরকার যদি নামাজিদের সংখ্যার উপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে শার’ঈ দৃষ্টিকোণে তারা মা’যুর (অক্ষম)। অথবা বয়োবৃদ্ধ কাউকে যদি সরকার মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তবে তিনিও মা’যুর (অক্ষম)। এমতাবস্থায় মা’যুর (অক্ষম) ব্যক্তি ঘরে জামা’আতসহ সালাত আদায় করবে, তা চায় কোনো একজন মহিলা মাহরামকে নিয়ে হলেও। আর না হয় একা আদায় করবে।

করোনাভাইরাসের শিকার বা অন্যান্য রোগ ব্যাধি ও সর্দি কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তি অথবা যারা পঞ্চাশোর্ধ হওয়ায় ভাইরাসের শিকার হওয়ার আশঙ্কাগ্রস্থ; তারা ভাইরাস সংক্রমণকালীন মসজিদে প্রবেশ করবে না। এমতাবস্থায় তারা জামা’আতে শরিক হওয়ার সওয়াব পাবেন।

সকল মসজিদের কার্পেট উঠিয়ে ফেলবে ও ফ্লোর নিয়মিত পরিষ্কার করে রাখবে। এবং মসজিদের দরজা ও গেইটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখবে।

জুম’আর দিন কোনো মসজিদে বয়ান হবে না। কেবল খুতবার আগে পাঁচ মিনিট ভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনতামূলক শরঈ ও মেডিক্যালিক আলোচনা করা হবে এবং সালাতের পর অতি দ্রুত মসজিদ ত্যাগ করবে।

যে সমস্ত রোগী বা বয়োবৃদ্ধদের সরকার ঘরে সালাত আদায় করতে বলেছেন তারা জুম’আর সালাতের পরিবর্তে যোহরের সালাত ঘরে আদায় করবে।

নাবালেগ শিশুরা মসজিদে প্রবেশ করবে না।

শামা টিভি