করোনা থেকে মুক্তির জন্য তওবা করুন: হাইআতুল উলয়া

নভেল করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য তওবার আহ্বান জানিয়েছে দেশের কওমী মাদরাসাসমূহের সরকার স্বীকৃত শিক্ষা বোর্ড ‘আল-হায়াতুল উলয়া লিল-জামায়াতিল কাওমিয়া বাংলাদেশ।

রোববার (২২ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতির মাধ্যমে এই আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস যে জটিল ও বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে তা নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের একটি পরীক্ষা ও আযাব। এটা মানুষের কৃতকর্মের ফল। আল্লাহ তা‘আলা এর দ্বারা মুমিনদের ঈমানের পরীক্ষা নিচ্ছেন। ঈমানের দাবি হল কোনো বিপদাপদের আভাস পেলেই মুমিন নিজের গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে তা বর্জন করবে, আল্লাহর দিকে রুজু হবে, নামাজে দাঁড়িয়ে যাবে এবং তাওবা ও ইস্তিগফার করবে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “মানুষের কৃতকর্মের দরুণ স্থলে ও পানিতে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কর্মের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।” সূরা রূম : ৪১

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কোনো সম্প্রদায়ের মাঝে যখন বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা প্রকাশ্যরূপ ধারণ করে তখন তাদের মাঝে মহামারি ও এমন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে যা পূর্বে কখনও দেখা যায়নি…।” (ইবনে মাজাহ)

তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীলগণের পক্ষ হতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানের পাশাপাশি গুনাহ, পাপাচার, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও অন্যায়-অবিচার বর্জনের প্রতি আহ্বানও আসা উচিত। এ মুহূর্তে আমাদের করনীয় হলোঃ-

১। সর্বপ্রথম যাবতীয় গুনাহ ও পাপাচার বর্জন করা এবং আল্লাহর নিকট অতীত গুনাহের জন্য তাওবা ও ইস্তিগফার করা। ২। পাঁচ ওয়াক্ত মসজিদের জামাতে ও জুমায় শরিক হওয়া এবং আল্লাহর নিকট এ আযাব হতে মুক্তির জন্য দুআ করা।
৩। ফিতনার সময়ের জন্য হাদীসে বর্ণিত দুআ ও আমলসমূহ সপরিবারে করা; অধিক পরিমাণে দুআয়ে ইউনুস পাঠ করা। ৪। আল্লাহ উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বজায় রেখে, আতংকিত না হয়ে সতর্কতামূলক যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৫। যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বা যাদের আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ আছে তাদের জনসমাগম ও মসজিদের জামাত থেকে বিরত থাকা।