করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে যেসব আমল করতে বললেন মুফতী তক্বী উসমানী

তৌফিক খান


চীনের উহান প্রদেশ থেকে বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। ইতিমধ্যে বৈশ্বিক জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও)। সংক্রমণ জনিত এ ভাইরাসের কারণে চিকিৎসকগণ পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে  শরঈ বিধি-বিধান, মসজিদে গমন ও করণীয় নিয়ে  পাকিস্তানের সামা টিভিতে একটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম প্রধান আলেম মুফতী তক্বী উসমানী।

সাক্ষাতকারে মসজিদে প্রবেশ নিয়ে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকতে মসজিদে গমনের পূর্বে মুসল্লিরা ঘরে সুন্নত নামাজ আদায় করবে। ফরজ নামাজের জন্য মসজিদে যাবে এবং নামাজে ইমাম ছোট ক্বিরাত পড়বে। নামাজের কাতারে একে অপরের সাথে দুরত্ব বজায় রাখলে কোনো সমস্যা নেই। ফরজ নামাজ  শেষে মুসল্লি ঘরে এসে সুন্নত ও নফল নামাজ আদায় করবে। সংক্রমণকালীন সময়ে মসজিদে কম সময় অবস্থান করবে।

মুফতী তক্বী উসমানী আরো বলেন, ইমাম জুম’আর খুতবা সংক্ষিপ্ত করে উভয় খুতবা দুই-এক মিনিটে শেষ করবে। খুতবায় হামদ ও দুরুদ পড়বে, তাকওয়ার আদেশ করবে ও আনুষঙ্গিক দুআগুলো সংক্ষিপ্ত করবে।

করোনা সংক্রমণকালীন মুসাফাহা না করলে শর’ঈ বিধান লঙ্ঘন  হবে কি-না?  এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মুসাফাহা ফরজ বা ওয়াজিব আমল নয়; এটি মুস্তাহাব। যদি এর দ্বারা সংক্রমণের আশংকা হয় তাহলে না করাই উচিত।


করোনার সংক্রমণ থেকে আল্লাহ তায়ালার নিকট মুক্তি চেয়ে কোন কোন দুআ পড়তে হবে? জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, প্রত্যেক নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ে নিজের উপর দম করবে। আল্লাহ তায়ালা এই আমলের দ্বারা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন।

আয়াতুল কুরসি-

(اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاواتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ)


শিশুদেরকে “আঊযুবি কালিমাতিল্লাহিত্তাম্মাতি মিন শার্রিমা খলাক্ব, ওয়াল্লাহু খায়রুন হাফিজাও ওয়া হুয়া আরহামুর রাহিমীন(أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ الّٰلهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَ اللّٰهُ خَيْرٌ حَافِظًا و هُوَ اَرْحَمُ الرَّاحِمِيْنَ) দুআটি পড়ে দম করবে এবং কাগজে লিখে তা গলায় বেঁধে দিবে।


তিনি আরো বলেন, যখন ঘর থেকে বের হবে এবং কোনো কিছু খাবে বা পান করবে, তখন ”বিসমিল্লাহিল্লাজি লা-ইয়া দুররু মাআ’সমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওলা ফিসসামায়ি ওহুয়াসসামিয়ুল আলীম” (بِسمِ اللّٰهِ الَّذِيْ لا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهٖ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ و لَا فِيْ السَّمَاء و هُوَ السَمِيْعُ الْعَلِيْم) পড়বে।


এছাড়াও মহামারী থেকে রক্ষা পেতে ছোট আরেকটি দুআ রয়েছে, তা হলো- ”আল্লামুহুম্মার-ফা, আন্নাল বালায়া ওয়াল ওবা” (الّٰلهُمَّ ارْفَعْ عَنَّا الْبَلاَيَا وَ الْوَبَاء)

করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অজুর ভূমিকা সম্পর্কে মুফতী তক্বী উসমানী বলেন, সংক্রমণ এড়াতে সবসময় অজুর সাথে থাকা সর্বোত্তম হাতিয়ার এবং এটি মানুষের বাহ্যিক ও আত্নিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং হেফাজতেরও মাধ্যম। যদি আমরা মানতে পারি এ আমল অনেক বড় তাদবীর ও হাতিয়ার হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের যেসমস্ত বিধি-বিধান দিয়েছেন তা সবসময়ের জন্যে উপকারী।

তিনি বলেন, আমার নিকট একজন দীনদার ব্যক্তির কল এসেছে, যিনি দাওয়াতে তাবলীগের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। তিনি স্বপ্নযোগে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাত লাভ করেন। মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন, ‘‘তিনবার সূরা ফাতিহা, তিনবার সূরা ইখলাছ ও তিনশত তেরবার ”হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল” (حَسْبُنَا اللّٰه و نِعْمَ الْوَكِيْلُ) পড়বে। তাহলে ইন শা আল্লাহ, আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপদে থাকবে।’’  তক্বী উসমানী বলেন, স্বপ্ন কুরআন-হাদীসের মতো দলিল না, তবে তাতে সুসংবাদ এলে সে অনুযায়ী কাজ করলে ব্যাপক উপকারিতা পাওয়া যায়।

তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাসসহ সমস্ত বিপদ-আপদ আসলে সবচেয়ে কার্যকরি ওষুধ হলো আল্লাহ তায়ালার ফরজ বিধানগুলোকে আদায় করা, নামাজের পাবন্দি করা, আল্লাহর কাছে দুআ করা এবং  তাঁর দিকে ফিরে আসা। আর প্রত্যেক মানুষকে একদিন তার দিকেই ফিরে আসতে হবে।