কাশ্মীরিদের ঈদে নেই উৎসব-আমেজ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আরিফ মুসতাহসান


হিন্দুত্ববাদী ভারত সরকারের প্রতিহিংসার দরুন ১০ মাসেরও বেশি সময় ধরে তালাবন্দি জম্বু-কাশ্মীরের মুসলমানরা। তার উপর করোনার প্রাদুর্ভাবে সতর্কতামূলক লকডাউন চলছে দুনিয়ার স্বর্গ খ্যাত এই অঞ্চলটিতে।

আজ সোমবার (২৫ মে) ঈদ পালন করেছে কাশ্মীর সহ ভারতের মুসলিম প্রধান এলাকাগুলো।

বরাবরের মতোই উৎসব আমেজের কোনো ছোঁয়া নেই কাশ্মীরিদের ঈদে। স্বাভাবিকভাবে কাশ্মীরিদের ঈদ উদযাপন হয় খুব আড়ম্বরপূর্ণ। কিন্তু কয়েকবছর যাবত হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকারের রোষানলে তাদের মাঝে ঈদের আমেজ নেই বললেই চলে।

ঈদ উপলক্ষে বাজি ফোটানো, একে অন্যের বাহিরে যাওয়া ও বাহারি রকমের আয়োজন থাকতো কাশ্মীরিদের ঈদে। কিন্তু এখন বাজি ফোটালে গ্রেনেডের আতঙ্ক ছড়িয়ে যায় এলাকাবাসীর মাঝে।

কাশ্মীরিদের খাবারের আয়োজনও থাকতো বেশ বৈচিত্রপূর্ণ। বেকারি সেজে উঠতো নানা ধরনের রুটি, কেক, প্যাস্ট্রিতে। তৈরি হতো গুস্তাবার মতো মাংসের নানান পদ। গ্রামে গ্রামে মহিলাদের গলায় শোনা যেতো কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী গান।

কিন্তু এবারে দেখা গেল না কিছুই। প্রকাশ্যে জমায়েত হয়ে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বেকারি, মাংসের দোকানও। বাড়ির মধ্যে বা বাগানেই নামাজ পড়েছেন মুসলমানরা।

গত বছর ও বিশেষ বিশেষ মর্যাদা হারানোর পর কারফিউতে জমায়েত হয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারেনি কাশ্মীরিরা।

উল্লেখ্য, করোনা কালে বেশ নাজুক অবস্থা ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের। সম্প্রতি আজাদ কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট মাসুদ খান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ৩৯০০জন কাশ্মীরীর জন্য যেখানে শুধুমাত্র একজন ডাক্তার তার বিপরীতে ৯ জন কাশ্মীরীকে পাহারা দিতে ১ জন সেনাবাহিনী নিয়োগ করেছে ভারত সরকার।