ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মুসলিম বিশ্ব ডেস্ক


কাশ্মীরি এক নারী তার ছেলেকে ঈদে বাড়িতে না আসতে বলেছেন।

নিজের সন্তানকে এক মিনিটের জন্য ফোন করার সুযোগ পেয়েছিলেন এই কাশ্মীরি মা।

তিনি বলেন, আমার স্বামী বেঙ্গালুরুতে থাকা আমার ছেলেকে ফোন করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাকে আমি বলেছি, আমি যাবো। কারণ তল্লাশি চৌকিতে নিরাপত্তাকর্মীরা পুরুষের চেয়ে নারীদের কম বাধা দিচ্ছে। এরপর জওয়াহর নগর থেকে হেঁটে আমার ছেলেকে ফোন দিতে ডিসি অফিসে গেলাম। ফোনে সে প্রথমে কেঁদে ফেলল। কিন্তু তাকে হতাশ হতে না বললাম। নিজের প্রতি যত্ন নিতে বললাম। এছাড়া ঈদে যাতে সে বাড়িতে না আসে, সেই নির্দেশ দিলাম। কারণ এখানকার পরিস্থিতি খুবই খারাপ।

সাধারণ মানুষের জন্য দূরে জরুরি ফোন করতে দুটি টেলিফোন লাইন উন্মুক্ত করার পর ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নারীরা শ্রীনগরের ডেপুটি কমিশনারের(ডিসি) অফিসে কাশ্মীরি নারীদের ঢল নেমেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের বাইরে থাকা তাদের সন্তানদের সঙ্গে একটু কথা বলতে তারা সেখান জড়ো হচ্ছেন।

শ্রীনগরের হাওয়ালের বাসিন্দা ফাহমিদা বলেন, আমার মেয়ের চলতি সপ্তাহে আসার কথা ছিল। কিন্তু সে টিকিট কাটতে পারেনি। কারণ এর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। কাজেই সারাদিন আমি দরজার বাইরে তাকিয়ে থাকি, কখন সে আসবে।

তিনি বলেন, চান্দিগড়ে সে কেমন আছে, তা নিয়ে আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় রয়েছি। কারফিউর মধ্যে সে শ্রীনগরে পৌঁছাতে পারবে কিনা, তা নিয়ে আমাদের হতাশার শেষ নেই।

এদিকে কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয়রা ফোনে স্বজনদের সঙ্গে ইচ্ছামতো কথা বলতে পারছেন। তবে অবশ্যই পরিমিত সময়ের মধ্যেই তাদের কথা বলতে হবে। অপারেটররা প্রত্যেকের জন্য এক মিনিটের কথা বলার সুযোগ করে দিচ্ছেন।