ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


কাশ্মীরে মুসলমাদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম ফটিকছড়ির সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন ফটিকছড়ি ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি।

আজ (২ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর ফটিকছড়ি বিবিরহাট কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে  আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসার মহাপরিচালক ও ফটিকছড়ি ইসলামি আইন বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী জালিম মোদি সরকার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্তির মাধ্যমে কাশ্মীরের মুসলমানদের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে মুসলমানদের উপর অমানবিক নির্যাতন করছে।কাশ্মীরকে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করছে।অনতিবিলম্বে কাশ্মীরের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় মুসলিমবিশ্ব কাশ্মীরের স্বাধীনতার জন্য দূর্বার আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, মুসলমান ঈমানী শক্তিতে বিশ্বাসী। ঈমানী শক্তির সামনে কোন শক্তির তুলনা হয় না। ঈমানি শক্তি দিয়ে বিশ্বমুসলিম কাশ্মীর সহ বিশ্বের মজলুম মুসলমানদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে।যুগে যুগে ওলামায়ে দেওবন্দের প্রকৃত অনুসারীরা বাতিলের বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দোলন চালিয়েছে। দারুল উলুম দেওবন্দের প্রকৃত সন্তানরা আজো আছে। দেওবন্দের সূর্য সন্তানরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে জালিম মোদি সরকার সহ সমস্ত জালিমের মূলোৎপাটন করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফটিকছড়ি ইসলামি আইন বাস্তবায়ন কমিটির আমীর ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, জালিম মোদি সরকার কাশ্মীরের মুসলমানদের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে নীরিহ- নিরপরাধ মুসলমানদের উপর যেই অমানবিক নির্যাতন নিপিড়ন চালাচ্ছে তা বর্ণনার কোন ভাষা নেই। নজিরবিহীনভাবে মুসলমানদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। মোদি বর্তমান সময়ের বড় সন্ত্রাস।

তিনি আরো বলেন, কাশ্মীর বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূর হলেও কাশ্মীরের মুসলমানদের সাথে আমাদের ঈমান ও ইসলামের সম্পর্ক রয়েছে।ঈমান ইসলামের সম্পর্কে কোন কাটাতাকাঁটাতার বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারে না। কাশ্মীরের মজলুম মুসলমানরা আমাদের ভাই। তাদের নির্যাতনে আমরা ঘরে বসে থাকব না। পৃথিবীর দেড়শ কোটি মুসলমান কাশ্মীরের মজলুম মুসলমানদের স্বাধীনতার জন্য শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

কাশ্মীরের মজলুম মুসলমানের স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে কেন আন্দোলন হবে এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার এক ভাষণে বলেছিলেন যে, আমি জালেমের পক্ষে থাকবো না, আমি মজলুমের পক্ষে থাকবো। মজলুমের পক্ষে কথা বলবো। সুতরাং জালেম-মজলুমের পক্ষালম্বনের ব্যপারে আমরা বঙ্গবন্ধুর এ নীতির আলোকে বলবো, কাশ্মীর ইস্যুতে আমরা জালিম মোদির পক্ষে থাকব না, থাকতে পারি না। বরং আমরা কাশ্মীরের মজলুম মুসলমাদের পক্ষে থাকবো। মজলুমের পক্ষে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবো। শুধু কাশ্মীর নয় বিশ্বের কোন এক প্রান্তেও যদি মুসলমানদের উপর অত্যাচার নির্যাতন করা হয় তাহলে আমরা এর জোর প্রতিবাদ করে যাবো।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, কাশ্মীরের নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করা দেশের নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ (১)(গ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “সাম্রাজ্যবাদ,ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন৷” আর যারা বাংলাদেশের জনগণের এই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করবে, কিংবা ভয়-ভীতি বা হুমকি ধমকি দিবে,তারা প্রত্যেকেই সংবিধান মতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইবে। সুতরাং সংবিধানের আলোকেই বাংলাদেশের মুসলমানগণ কাশ্মীরের মজলুম মুসলমানের জন্য আন্দোলন করছে।

সমাবেশে বক্তারা প্রিয়া সাহার রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে গ্রেফতারের দাবী জানান। এবং ইসকন সম্পর্কে বলেন, ইসকন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হলেও মূলত এটা ইহুদী পরিচালিত। এদের টার্গেট হলো বাংলাদেশে উস্কানীমূলক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি করা। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসকনকে নিষিদ্ধ করে তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

তীব্র রোদ উপেক্ষা করে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি সহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সর্বস্তরের তৌহিদি জনতা মিছিলে মিছিলে সমাবেশে অংশ গ্রহণ করেন। পুরো ঈদগাহ ময়দানে তিল ধারণের ঠাই ছিল না। রাস্তা ঘাট পেরিয়ে পাশের বিভিন্ন ভবনের ছাদেও উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।সমাবেশ লোকে লোকারণ্য হয়েছিল।

সমাবেশ শেষে একটি প্রতিনিধি দল ইউ. এন.ও অফিসে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন।