ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক


জম্মু ও কাশ্মীরের ভারত সরকার এবং দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর বড় ধরণের আঘাত হানতে কাশ্মীরি মুজাহেদিনদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আল-কায়েদার প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরী।

‘কাশ্মীরকে ভুলে যেও না’ শিরোনামের এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে।

ভিডিও বার্তায় আয়মান আল-জাওয়াহিরী বলেন,  ‘‘আমার মতে, এই মুহূর্তে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আপসহীন আঘাতকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত কাশ্মীরের মুজাহিদদের। ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে অর্থ ব্যবস্থাকে, যাতে লোকবল এবং সরঞ্জাম, সব ক্ষেত্রেই মুখ থুবড়ে পড়ে ভারত।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘কাশ্মীরের লড়াই কোনও আলাদা লড়াই নয়, বরং ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের জিহাদ। সর্বত্র এই বার্তা পৌঁছনো উচিত। যে কাফেররা মুসলিম দেশগুলিকে দখল করে রেখেছে, যত দিন পর্যন্ত তাদের তাড়ানো যাচ্ছে, তত দিন কাশ্মীর, ফিলিপিন্স, চেচনিয়া, মধ্য এশিয়া, সিরিয়া, আরব উপমহাদেশ, সোমালিয়া,  ইসলামিক মাঘরেব (উত্তর অফ্রিকার মুসলিম দেশগুলি)এবং তুর্কেস্তানে জিহাদকে সমর্থন করা বিশ্বের সমস্ত মুসলিমের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।’’

ভারত এবং পাকিস্তান দুই দেশকেই আমেরিকার দালাল বলে আখ্যায়িত করেন আল-জাওয়াহিরী।

তিনি বলেন, ‘‘আফগানিস্তান থেকে রাশিয়াকে হটানোর পরেও আরব মুজাহিদিনকে কাশ্মীরে ঢুকতে দেয়নি পাকিস্তান। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে মুজাদিনকে শুধুমাত্র ব্যবহার করে এসেছে তারা। কাজ ফুরোলে নির্যাতন করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।’’

সীমান্ত ঘিরে পাক-ভারতের সংঘাতকে মার্কিন গোয়েন্দাদের মদদপুষ্ট সেকিউলার লড়াই বলেও অভিহিত করেন  আল-কায়েদা প্রধান।

২০১২ সালে আল কায়দার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে পূর্ব আফ্রিকার হরকত আল-শাবাব আল মুজাহিদিন। আল-শাবাব তারাই জওয়াহিরির এই ভিডিয়ো সামনে এসেছে।

ভারতীয় বাংলা জাতীয় দৈনিক আনন্দ বাজারের প্রতিবেদনে বলে হয়েছে জাওয়াহিরীর ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে দেখেছে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত সংগঠন ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিস’। নিজেদের লং ওয়ার জার্নাল ওয়েবসাইটে জওয়াহিরির বার্তা সবিস্তারে প্রকাশ করেছে ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিস। উল্লেখিত সংগঠনটি ইসরাইল পন্থী সংগঠন হিসেবে পরিচিত।

তিনি বলেন,  ‘‘আমার মতে, এই মুহূর্তে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আপসহীন আঘাতকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত কাশ্মীরের মুজাহিদদের। ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে অর্থ ব্যবস্থাকে, যাতে লোকবল এবং সরঞ্জাম, সব ক্ষেত্রেই মুখ থুবড়ে পড়ে ভারত।’’