৯৪ হাজার কাশ্মীরি মুসলিমকে হত্যা ও ১০ হাজার নারীকে ধর্ষণ করেছে ভারতীয় সেনারা

April 13, 2016

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


ভারতের দখলকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ১৯৮৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯৪ হাজার ২৯০ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে ভারতীয় বাহিনী। এদের মধ্যে সাত হাজার ৩৮ জন মারা গেছে ভারতীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায়।

কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিস দীর্ঘ গবেষণার পর ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ভারতের দখলকৃত কাশ্মীরে ওই হত্যাকাণ্ডের কারণে ২২ হাজার ৮০৬ জন নারী বিধবা এবং ১০ লাখ সাত হাজার ৫৪৫ জন শিশু এতিম হয়ে পড়ে।

রিপোর্টে আরো বলা হয়, ভারতীয় বাহিনী ১০ হাজার ১৬৭ জন নারীকে ধর্ষণ করেছে এবং প্রায় ১০ লাখ বাসাবাড়ি ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ২৭ বছর সময়ে প্রায় আট হাজার নিরাপরাধ মানুষ ভারতীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় নিখোঁজ হয়ে গেছে।

সূত্র:
এনডিটিভি, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, আলজাজিরা


কাশ্মীরের মর্যাদা হনন; প্রতিবাদে সংসদের মধ্যেই ভারতের সংবিধান ছিঁড়লেন কাশ্মীরি এমপি

আগ ৫, ২০১৯ | ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক


ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার কর্তৃক সোমবার ভারতের রাজ্যসভার অধিবেশনে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল সংক্রান্ত প্রস্তাব পাসের প্রতিবাদ জানিয়েছেন কাশ্মীরের সসাংসদ পিডিপি নেতা মীর মুহাম্মাদ ফাইয়াজ।

তিনি এই বিল উত্থাপনের প্রতিবাদে সংসদের মধ্যেই ভারতীয় সংবিধান ছিঁড়ে ফেলেন। সোমবার (০৫ আগস্ট) ভারতের রাজ্যসভার অধিবেশনে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপনের সময় এ ঘটনা ঘটে।

এসময় সংসদ থেকে তাঁকে বের করে দেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান নাইড়ু। প্রতিবাদী অপর সাংসদ নাজির আহমেদকেও বের করে দেয়া হয়।

সংসদে অমিত শাহের বক্তব্য রাখার পর থেকেই বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন জম্মু ও কাশ্মীরের অন্যতম রাজনৈতিক দল পিডিপির দুই সাংসদ নাজির আহমেদ এবং মীর মুহাম্মাদ ফাইয়াজ।


মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানে যোগ না দেয়াটা কাশ্মীরিদের ভুল ছিল : মেহবুবা মুফতি

আগ ৫, ২০১৯ | ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক


১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পর কাশ্মীরিদের মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের সাথে যোগ না দেয়াটা ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান মেহবুবা মুফতি।

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা-সংক্রান্ত ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মেহবুবা বলেন, কাশ্মীরের জনগণের সঙ্গে ভারত প্রতারণা করেছে। আমরা সরকার এবং ঐক্যবদ্ধ ভারতে বিশ্বাস করি; কিন্তু তারা আমাদের এ বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছে। জনগণ এখনো চিন্তা করছে যে, তারা পাকিস্তানে যোগ না দিয়ে ভুল করেছে।

ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল ইন্ডিয়া ট্যুডের কাছে পাঠানো এক অডিও বার্তায় জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট গণতন্ত্রের জন্য একটি কালো দিবস। এই দিন কাশ্মীরের জনগণকে দেয়া অধিকার পার্লামেন্টের চোরের দল কেড়ে নিয়েছে।

মেহবুবা মুফতি বলেন, ভারত এত বড় একটি দেশ, তারপরও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ছোট একটি রাজ্যের ভয়ে ভীত। ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে কেন এ সিদ্ধান্ত নেয়া হলো?

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কাশ্মীরি জনগণকে দমন করার জন্য পুরো দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে বিজেপি সরকার।

সোমবার ভারতের রাজ্যসভায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা-সংক্রান্ত ধারা ৩৫-এ বাতিলের প্রস্তাব আনেন। বিরোধী দলের সদস্যদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও প্রস্তাবটি পাস হয়। এ প্রস্তাব পাসের ফলে জম্মু-কাশ্মীর ভেঙে কেন্দ্রীয়ভাবে শাসিত দুটি অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হবে। এর মধ্যে লাদাখ কেন্দ্রশাসিত তৃতীয় একটি এলাকা হিসেবে বিবেচিত হবে।

৩৭০ অনুচ্ছেদের কারণে জম্মু ও কাশ্মীর অন্য যেকোনো ভারতীয় রাজ্যের চেয়ে বেশি স্বায়ত্তশাসন ভোগ করতো। এ ধারা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর ভিত্তিতেই কাশ্মীর রাজ্য ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৩৭০ ভারতীয় রাজ্য জম্মু-কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান ও একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দেয়। এছাড়া পররাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়াদি, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ বাদে অন্যান্য সব ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দেয়।